জেলা প্রতিনিধি
০৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
প্রেমের টানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সুদূর শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন থেকে ফেনীতে ছুটে এসেছেন দুই তরুণী। ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার বাধা পেরিয়ে তারা এখন বাংলাদেশি দুই যুবকের ঘরনি। তাদের এই সাহসী পদক্ষেপে এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।
ইসলাম গ্রহণ করে নতুন পথচলা
শ্রীলঙ্কান তরুণী ইশারা মাধবী জয়শখারা প্রেমের টানে দাগনভূঞার যুবক এজাজ আহমেদ শিহাবের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশে আসার পর তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নতুন নাম রেখেছেন ‘জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত’।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে কাজ করার সময় ফেনীর দাগনভূঞার যুবক এজাজ আহমেদ শিহাবের সঙ্গে পরিচয় হয় ইশারার। দীর্ঘ তিন বছরের পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেম। ওমানের আইনে বিয়ে করা জটিল হওয়ায় তারা দুজনে বাংলাদেশে এসে ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন ইশারা। এরপর তিনি স্থানীয় আলেমের কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন জান্নাত। পরে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে পারিবারিকভাবে ও ধর্মীয় রীতি মেনে শিহাবের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন দাগনভূঞা পৌর এলাকার কাজী মাওলানা আবদুল কাদের।
শিহাব জানান, ‘ওমানে থাকাকালীন আমরা একে অপরকে বুঝতে পেরেছি। পরিবারকে রাজি করাতে কিছুটা সময় লাগলেও এখন সবাই খুব খুশি। জান্নাত আমাকে পেয়ে এবং এদেশের মানুষের আন্তরিকতায় অনেক আনন্দিত।’ অন্যদিকে নতুন জীবনে পদার্পণ করা জান্নাত জানান, শিহাবের পরিবার তাকে নিজের মেয়ের মতো গ্রহণ করে নিয়েছে। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
রামনগর ইউনিয়নের আজিজ ফাজিলপুর গ্রামে এই বিয়েকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কৌতুহল ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির এই মিলনকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক ও সাহসিকতাপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকলে যেকোনো সংসারই সুখের হয়।

অন্যদিকে সনাতন রীতিতে ফিলিপাইনি তরুণীর বিয়ে
একই সময়ে ফেনী শহরের কালী মন্দিরে ভিন্ন এক আবহে সম্পন্ন হয়েছে ফিলিপাইনি তরুণী জেনির (৩২) বিয়ে। নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুজন পালের (৩৪) সঙ্গে তার বিয়ে হয় সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী।
২০১৮ সালে কাতারে কাজের সূত্রে তাদের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ৮ বছরের সেই সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতেই জেনি বাংলাদেশে ছুটে আসেন। বুধবার রাতে ফেনী শহরের কালী মন্দিরে সাত পাকে বাঁধা পড়েন এই যুগল। সুজনের পরিবারের উপস্থিতিতে এবং পুরোহিতের মন্ত্রপাঠে তাদের এই বৈবাহিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
প্রতিনিধি/একেবি