images

সারাদেশ

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

জেলা প্রতিনিধি

০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় গ্যাসপাম্পে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ মোতাহের নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আবু তাহের ও আব্দু রহিম মারা যান। সর্বশেষ গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মোতাহের। কয়েকদিন ধরে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসা চললেও বৃহস্পতিবার ভোরে তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের একটি এলপিজি গ্যাসপাম্পে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীসহ অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। গুরুতর আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

8b39875a-2cfa-4117-a024-22eb3e8e5a9c

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শান্তনু ঘোষ  জানান, দগ্ধদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। গুরুতর আহতদের দ্রুত চট্টগ্রামে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য।

এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গ্যাসপাম্পটির বৈধতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাসপাম্পটির জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি), পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স—কোনোটিই ছিল না।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া আবাসিক ও পর্যটন এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনা করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, নিহতদের পরিবার দ্রুত বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।

4c82772d-b1f5-486c-987f-8f6c5132290f

রোববার (১ মার্চ) রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস. এম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন।

ওসি জানান, গ্যাস পাম্পের মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ এন আলম পলাতক রয়েছেন। বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিস্ফোরণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস.এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া গ্যাসপাম্পটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাম্পটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, গ্যাস বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে কাজ করা স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনে পরিচালনা না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়।

প্রতিনিধি/টিবি