জেলা প্রতিনিধি
০৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
সুন্দরবনে অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে বনদস্যুদের হাত থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে। দস্যুদের দাবি অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলের বিনিময়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। ফিরে আসা জেলেরা নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবি মহাজনের অধীনে কর্মরত ছিলেন।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠুর পাঠানো এক অডিও বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে অপহরণ করে। পরবর্তীতে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে আরও ২০ জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।
আরিফ হোসেন মিঠুর অডিও বার্তা থেকে জানা যায়, দস্যুরা ৪ মহাজনের ওই ১৪ জেলেকে মুক্তি দিয়েছে। তবে এর জন্য চড়া মূল্যে মুক্তিপণ গুনতে হয়েছে তাদের।
দুবলার চর শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় জেলেদের মহাজনদের বরাত দিয়ে জানান, চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় সংঘবদ্ধ দস্যু বাহিনী যেকোনো সময় শুঁটকি পল্লীতে পুনরায় হানা দিয়ে বিপুল সংখ্যক জেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুঁটকি উৎপাদনকারী চরগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সুন্দরবনে দস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চল এখন দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দস্যুরা জেলে অপহরণের পাশাপাশি মহাজনদেরও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জে জোরালো অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এই বন কর্মকর্তা।
প্রতিনিধি/একেবি