জেলা প্রতিনিধি
০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বহুল আলোচিত সুরেশ্বর দরবার শরীফের খাদেম জয়নাল সরকার হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলার মূল আসামি হিসেবে অভিযুক্ত সুরেশ্বর দরবার শরীফের গদীনশীন পীর তোহিদুল হোসেন শাহীন নূরীকে অস্ত্র ও বিভিন্ন আলামতসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দরবার শরীফ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহভাজন বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নড়িয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খাদেম জয়নাল সরকার হত্যার ঘটনায় পূর্বে গ্রেফতার হওয়া রবিন শেখ (৩২) নামে এক আসামির দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে শাহীন নূরীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় শাহীন নূরীর কাছ থেকে একটি ধারালো চাকু, শটগানের ১৩৩টি খালি কার্তুজ, ছয়টি হার্ডড্রাইভ, একটি এসএসডি, চারটি ওয়াকি-টকি সেট, একটি ডিভিআর, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, চারটি বাটন মোবাইল ফোন এবং দুটি স্লিং শট রাইফেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শটগানের বিভিন্ন অংশ ও একটি শটগান বক্স জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ু
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত জয়নাল সরকারের মেয়ে ইভা আক্তার গত ২৫ অক্টোবর নড়িয়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিন বিকেলে জয়নাল সরকার বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ঘড়িসার ইউনিয়নের আটপাড়া এলাকার একটি পুকুরে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করলে স্বজনরা সেটি জয়নাল সরকারের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, তদন্তে শাহীন নূরীর জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বাসা থেকে গাড়িতে করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান।
প্রতিনিধি/এসএস