images

সারাদেশ

সরকার দিলো ৮০ কেজি, জেলেদের হাতে পৌঁছাল ৭০!

জেলা প্রতিনিধি

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেওয়া খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারিভাবে প্রত্যেক জেলের জন্য ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও অনেকেই পেয়েছেন মাত্র ৭০ থেকে ৭২ কেজি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণকালে এ অনিয়মের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও উপকারভোগী জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে কার্ডধারী প্রতিটি জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নে এ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৫০ জন জেলের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপস্থিত হওয়ার আগেই সকাল ৭টা থেকে নিজস্ব লোকজন নিয়ে চাল বিতরণ শুরু করেন। নিয়ম অনুযায়ী চাল ওজন করে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। এতে বেশিরভাগ জেলেই নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পান।

ভুক্তভোগী জেলে রকিব মাঝি বলেন, আমার ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ৭০ কেজি। জানতে চাইলে বলা হয় চাল কম এসেছে। আমরা গরিব মানুষ—কিছু বললেও লাভ নেই।

মালবাজার এলাকার ফয়সাল হোসেন জানান, বাবার নামে বরাদ্দ চাল নিতে এসে তিনি দেখেন ৮০ কেজির পরিবর্তে ৭২ কেজি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান বলেছেন, উপজেলা থেকে চাল কম এসেছে। কিন্তু সাংবাদিকরা আসার পর আবার ৮০ কেজি করে চাল দেওয়া শুরু হয়।

আরেক জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ রেখে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। সরকারের দেওয়া সহায়তার চাল থেকেও যদি কম দেওয়া হয়, তাহলে আমরা চলবো কীভাবে?

চাল বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এম. রাফসান রাব্বি ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরান ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। তাদের উপস্থিতিতে পরবর্তীতে অবশিষ্ট জেলেদের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ চাল বিতরণ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান দাবি করেন, তিনি সঠিকভাবেই চাল বিতরণ করেছেন। তবে ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান সরকার বলেন, বস্তাভেদে দুই-তিন কেজি চাল কম থাকতে পারে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

 

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, অনিয়মের সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। তারা গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণে এমন অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জেলেরা বলছেন, অভিযানকালীন সময়ে এই চালই তাদের পরিবারের একমাত্র খাদ্যভরসা—সেখানে অনিয়ম হলে কর্মসূচির উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

প্রতিনিধি/টিবি