০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৭ এএম
‘ফেসবুকে অনেকেই সূর্যমুখী বাগানের ছবি দিচ্ছিল, সেই লোভেই বাবার সাথে ঘুরতে আসা’ এভাবেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল ভাদুঘর এলাকায় বাগান দেখতে আসা শিশু ত্রিদিবা। শুধু ত্রিদিবাই নয়, প্রতিদিন সকাল-বিকেল সৌন্দর্যপিপাসুরা দল বেঁধে আসছেন সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে। কেউ সেলফি তুলতে ব্যস্ত, কেউবা সপরিবারে ছবি তুলছেন। চারদিকে হলুদ ফুলের সমারোহ আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ যেন এক অন্যরকম আবেশ তৈরি করেছে।
এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আবাদ হয়েছে ৫৪ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এ থেকে প্রায় ৯৭ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
সরেজমিনে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই গ্রাম, রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর, পৌর এলাকার ভাদুঘর এবং নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের রসুলপুর ঘুরে দেখা গেছে সূর্যমুখী ফুলের চোখজুড়ানো বাগান। চাষিরা জানান, প্রতিটি গাছেই ফুল ধরতে শুরু করেছে। ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আর মৌমাছির গুনগুনে মুখর চারপাশ। সূর্যের মতো হাসি ছড়ানো এই হলুদ গালিচা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
শহরের কাজীপাড়া থেকে রসুলপুর বাগানে ঘুরতে আসা আতিক বলেন, “প্রথমবার সূর্যমুখী বাগান দেখতে আসলাম, জায়গাটি খুব সুন্দর।” তার বড় বোন ইসমত আরা বেগম নিপাও ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
কৃষকরা বলছেন, অল্প পুঁজিতে সূর্যমুখী চাষে অধিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। রসুলপুর এলাকার বাগান মালিক জয়নাল আবেদিন জানান, আড়াই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। বর্তমান ফলন দেখে তিনি ভালো লাভের আশা করছেন। ভাদুঘর গ্রামের চাষি শাহানুর ভূঁইয়া জানান, আগে তিনি সবজি চাষ করতেন। কিন্তু ধান ও সবজির তুলনায় সূর্যমুখী চাষ বেশি লাভজনক। তিনি বলেন, “কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছি। স্থানীয় ঘানিতেই এই বীজ থেকে তেল ভাঙানো সম্ভব।”
তবে দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ে কিছুটা চিন্তিত কৃষি কর্মকর্তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমরেশ দাশগুপ্ত জানান, কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রদর্শনী প্লট ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে দর্শনার্থীরা বাগানে ঢুকে ফুল নষ্ট করায় অনেক কৃষক আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তিনি আরও জানান, সূর্যমুখী তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী; এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, “কৃষি প্রণোদনার আওতায় ৩০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। প্রতি বিঘা থেকে ৬-৬.৫ মণ বীজ পাওয়া সম্ভব, যার বাজারমূল্য ৮-৯ হাজার টাকা।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুনসী তোফায়েল হোসেন জানান, এ বছর ৫৪ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নবীনগরে ১২ হেক্টর এবং বাঞ্ছারামপুরে সর্বোচ্চ ১৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এছাড়াও সদর, সরাইল, কসবা, নাসিরনগর, আখাউড়া, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরেও সূর্যমুখীর ফলন হয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি