জেলা প্রতিনিধি
০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:১০ এএম
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পাম্প মালিক নুরুল আলম ওরফে এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরক পরিদফতর।
সোমবার (২ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলমকে একমাত্র আসামি করে বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪; তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা, ২০০৪ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে গ্যাস পাম্পটি স্থাপনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়া হয়নি। কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কর্মচারীরা প্রথমে বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩০টি যানবাহন, চারটি বসতবাড়ি ও বেশ কিছু অবকাঠামো পুড়ে যায় এবং অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হন।
গুরুতর আহত ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, দগ্ধদের মধ্যে আবু তাহেরের শরীরের ৯০ শতাংশ, রহিমের ৫০ শতাংশ, সিরাজের ৪০ শতাংশ, সাকিবের ৩০ শতাংশ এবং মেহেদি ও মোতাহেরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
আহতদের মধ্যে অটোরিকশাচালক আবু তাহের (৪২) তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত রোববার (১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।
আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নছির উদ্দিন জানান, সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে ঢাকা থেকে ময়নাতদন্ত শেষে আবু তাহেরের মরদেহ কক্সবাজারের উদ্দেশে নিয়ে রওনা হয়েছেন স্বজনরা।
ওসি মো. ছমি উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকায় চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। মরদেহ কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি