জেলা প্রতিনিধি
০২ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
প্রকৃতি কখনও কখনও নিজেই নিজের ক্যানভাসে নতুন রঙ ছড়িয়ে দেয়। চেনা দৃশ্যপটের ভিড়ে হঠাৎই অচেনা এক আভা এসে দাঁড়ায় বিস্ময়ের মতো। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে দেখা মিলেছে তেমনই এক বিরল সৌন্দর্যের ‘হলুদ শিমুল’।
সম্প্রতি পার্কসংলগ্ন পথে হাঁটতে গিয়েই চোখে পড়ে গাছটি। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার পাতাঝরা শিমুলগাছটি যেন হলুদের দীপ্তিতে নিজেকে আলাদা করে চিনিয়ে দিচ্ছে। ডালজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য ফুল -কোথাও একটি, কোথাও দু-তিনটি, আবার কোনো ডালে একসঙ্গে ঝাঁক বেঁধে। সবুজ পাতা আর আধফোটা কলির ভিড়ে হলুদ ফুলগুলো যেন রোদেলা বিকেলের আলো হয়ে ঝলমল করছে।
এসময় দেখা যায়, বার্ড পার্কের মসজিদ প্রাঙ্গণে নানা প্রজাতির ফুলগাছের সমাহার। রঙে-রূপে, গন্ধে-গুণে তারা যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি দর্শনার্থীদের মনও কাড়ে প্রতিনিয়ত। তবে সবার মাঝেই আলাদা হয়ে চোখে পড়ে এক গাছ, যার ডালে ডালে ফুটে আছে দুষ্প্রাপ্য হলুদ শিমুল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণত এ অঞ্চলে লাল বা লাল-হলুদ মিশ্র শিমুল ফুল বেশি দেখা যায়। একেবারে হলুদ শিমুল খুবই দুষ্প্রাপ্য। এমন ফুল এর আগে এই এলাকায় চোখে পড়েনি।

প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি কেবল একটি গাছ নয়; বরং অচেনা রঙে ধরা দেওয়া এক অনন্য বিস্ময়, যা মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতি এখনও তার চমক লুকিয়ে রাখে আমাদেরই চারপাশে।
বিরল এই শিমুল দেখতে প্রতিদিনই পার্কে ভিড় করছেন কৌতূহলী দর্শনার্থীরা। তারা থমকে দাঁড়ান, ছবি তোলেন, অনেকে বিস্ময়ে বলছেন; শিমুল তো লালই হয়, হলুদও হয় নাকি!
দর্শনার্থী রায়হান হাসান বলেন, শিমুল তো সব সময় লাল দেখেছি। হলুদ শিমুল নিজের চোখে দেখবো ভাবিনি। খুবই ব্যতিক্রম আর সুন্দর লাগছে।
আরেক দর্শনার্থী কলেজশিক্ষার্থী সাবিহা নাসরিন বলেন, দূর থেকেই গাছটা আলাদা করে চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে দেখি ডালে ডালে হলুদ শিমুল ফুল। ছবি না তুলে থাকা যায় না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, প্রকৃতির বৈচিত্র্য যে কত সমৃদ্ধ, এই গাছ তারই উদাহরণ। এ ধরনের বিরল প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি সংরক্ষণ করা জরুরি। বিরল গাছ হিসেবে পরিচর্যা দরকার।
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, হলুদ শিমুল দুষ্প্রাপ্য। আমি নিজেও আগে কখনও এমনটি দেখিনি। প্রায় দুই বছর আগে এখানে সাদা, লাল ও হলুদ শিমুলের চারা রোপণ করি। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গাছটিতে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো হলুদ ফুল ফুটেছে, এটি আমাদের জন্য আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত। ভবিষ্যতে বার্ড পার্কে আরও দুর্লভ ও বিরল প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু জানান, এ অঞ্চলে হলুদ শিমুলের দেখা মেলে না বললেই চলে। হলুদ শিমুল একটি দুষ্প্রাপ্য ও বিরল প্রজাতির ফুল। এর উজ্জ্বল হলুদ রঙ সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। শীতের শেষে ফাল্গুন-চৈত্রে এই ফুল ফুটে ওঠে। ফুল ফোটার আগে লাল শিমুলের মতোই হলুদ শিমুলগাছের পাতাও ঝরে যায়। গড়ন ও আকৃতিতে এটি লাল শিমুলের মতোই, তবে রঙের ভিন্নতায় তৈরি করে আলাদা আবেদন। হলুদ ফুল প্রকৃতিকে দেয় এক অনন্য নান্দনিকতা।
প্রতিনিধি/এসএস