জেলা প্রতিনিধি
০১ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
আলু চাষ করে বারবার লোকসানে পড়ে কৃষকরা যখন হতাশ। ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন সবজি ‘বিটরুট’ নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে জয়পুরহাটের কৃষকদের। এবারই প্রথম বিটরুট চাষ করে বিঘা প্রতি লাখ টাকারও বেশি লাভ করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর হাটশহর গ্রামের কর্ণপাড়া গ্রামের কয়েকজন প্রান্তিক কৃষক। তারা প্রায় আট বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো বিটরুট চাষ করে সফল হয়েছেন। তাদের এই সফলতার গল্প এখন আলু চাষিদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। চাষ প্রণালির আদ্যোপান্ত জানতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ‘বিটরুট’ চাষ দেখতে ওই মাঠে ভিড় করছেন কৃষকরা।
বিঘাপ্রতি মাত্র দশ থেকে বারো হাজার টাকা খরচ করে কৃষকরা নতুন এই সবজি উৎপাদন করছেন ৯০ থেকে একশ মণ হারে। যা বিক্রি করছেন এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। লাভ বেশি দেখে ‘বিটরুট’ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। লাভজনকের পাশাপাশি অত্যন্ত পুষ্টিকর হওয়ায় বিটরুট চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছেন জেলার কৃষিবিভাগ। জেলায় এবার জয়পুরহাট সদর, ক্ষেতলাল ও পাঁচবিবি উপজেলায় বিটরুট চাষ হয়েছে প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে। বিঘা প্রতি এর চাষ খরচ মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর ফলন হয় ৯০ থেকে একশ মণেরও বেশি। অন্যান্য উপজেলায় বিক্ষিপ্তভাবে চাষ হলেও ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর হাটশহরের কর্ণপাড়া মাঠে এবার বিটরুটের চাষ বেশি হয়েছে।

গত বছর কর্ণপাড়া মাঠে বেসরকারি সংস্থা ‘এসো’র কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রদর্শনী খেত লাভজনক হওয়ায় কয়েকজন কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে পাশাপাশি প্রায় ৮ বিঘা জমিতে এবারই প্রথম বিটরুট চাষ করে বাজিমাত করেছে। রোপণের ৮০ দিন পর থেকে তারা বিটরুট বিক্রি করছেন। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ বিটরুট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। এতে একবিঘা জমিতে বিটরুট চাষ করে খরচ বাদে কৃষকরা আয় করছেন লাখ টাকারও বেশি।
ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর হাটশহর গ্রামের অনীল চন্দ্র বলেন,‘গত বছর বেসরকারি সংস্থা সোশ্যাল অ্যাহেড অর্গানাইজেশন (এসো) থেকে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোরশেদুল ইসলাম তার ৬ শতক জমিতে প্রথম বিটরুটের প্রদর্শনী খেত করেন। এতে তার খরচ হয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা। আশি দিন পর সেই খেত থেকে তিনি বিটরুট বিক্রি করেছেন ১৮ হাজার টাকার। এই লাভ পেয়ে তিনি এবার এক বিঘা জমিতে বিটরুট চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে গড়ে এক হাজার ২০০ টাকা মণ দরে ৬০ মণ বিটরুট বিক্রিও করেছেন। জমিতে তার আরও ৪০ থেকে ৫০ মণের মতো বিটরুট আছে। যা বিক্রি করে খরচ ছাড়াই লাখ টাকারও বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
শুধু অনীল নয়, তার দেখে ওই গ্রামের আচান, সরেন, কৃষ্ণ ও অর্জুন এবং পাশের ভুতপাড়া গ্রামের খগেন ও বাঘোপাড়ার তোজাম্মেলও একবিঘা করে বিটরুট চাষ করে বাজিমাত করেছেন। রোপণের আশি দিন পর এখন প্রতিদিন তারা বগুড়ার মহাস্থান হাটে মণকে মণ বিটরুট বিক্রি করছেন।
আচান চন্দ্র বলেন,‘গত বছর আলুতে লোকসানের পর আলু চাষ বাদ দিয়ে এবার বিটরুট চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। এবারতো আলুতে আরো লোকসান অথচ ১০ থেকে মাত্র ১২ হাজার টাকায় বিটরুট চাষ করে আমার লাভ হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। এই ফল খেতেও সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। তিনি বলেন, প্রতিদিন বিটরুট চাষ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আসছেন তাদের জমিতে। আগামীতে এই চাষ অনেক বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বেসরকারি সংস্থা এসো’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ সলিল চৌধুরী বলেন,‘গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে কৃষকদের লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েই কৃষির জন্য উর্বর এ অঞ্চলে বিটরুট চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীতে কৃষকরা এর সুফল ভোগ করবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন,‘নতুন সবজি বিটরুট চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন বলে শুনেছি। বিটরুট চাষে তিনি কৃষকদের কারিগরিসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি/এসএস