জেলা প্রতিনিধি
০১ মার্চ ২০২৬, ০১:১১ পিএম
রমজান ঘিরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনউষার বাজারে কয়েকজন বন্ধু মিলে শুরু করেছে বিনা লাভের বাজার। এতে বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য ক্রয় করতে পেরে খুশি হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এলাকার সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, এলাকার যুব সমাজ এভাবে এগিয়ে আসলে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙবে ও এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা উপকৃত হবে।
গত ৫ রমজান দুপুর থেকে শুরু হয়েছে এই বিনা লাভের বাজারের কার্যক্রম। ‘আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য- লাভ নয় সেবা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে নেছার, ফাহিম, সানি, সাকিব, সামাদ, সাকি, বেলাল ও ইলিয়াস নামে আট বন্ধু মিলে তাদেরর জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেছে বিনা লাভের বাজার।

স্থানীয়রা জানান, রমজান মাসে বাজারের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষসহ নিম্নবিত্তরা দিশেহারা। তারা মনে করেন, সামান্য হলেও যদি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন তবে সেটাই তাদের সার্থকতা।
তাদের এই বিনা লাভের বাজার রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আট বন্ধু।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন ফয়সল আহমেদ ফাহিম বলেন, বাজারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে তারা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ মানুষের কাছে বিক্রি করছেন।
বিনা লাভের বাজারের উদ্যোক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষকে অনেক কষ্ট করে রোজার মাসে চলতে হয়। এজন্য আমরা মাসব্যাপী বিনালাভের বাজার চালু করেছি। যাতে অন্তত বিনা লাভের বাজার থেকে পণ্য কেনার পর কিছু টাকা সাশ্রয় হয় সাধারণ মানুষের। একইসঙ্গে ক্রেতাদের কিছুটা সাশ্রয় হবে।
বিনা লাভের বাজারে যেসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে— পেঁয়াজ-৩৩ টাকা, রসুন-৬০ টাকা, ছোলা-৮০ টাকা, মশুর ডাল-৮৫ টাকা, চানার ডাল-৫৮ টাকা, সেমাই-৩৫ টাকা, আলু-১৫ টাকা, শসা-৫০ টাকা, গাজর-২৫ টাকা, লাউ (পিচ)-২৫ টাকা, লেবু হালি (৪ পিস)-৪৫ টাকা, ধনিয়া পাতা (কেজি)-৩৫ টাকা, কাঁচা মরিচ (কেজি)-১৩০টাকা, বেগুন (কেজি)-৪৫ টাকা, আলু (কেজি)-১৫ টাকা।

ডলি আক্তার নামের এক গৃহিনী বলেন, আমি কাঁচামরিচ ১৩০ টাকা কেজি ধরে কিনেছি। অথচ বাজারে কাঁচামরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আলু ১৫ টাকা করে নিয়েছি বাহিরে ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এখানে বাজার করে আমার বেশ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
এই বাজারে পণ্য কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, রমজান আসলেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। পেঁয়াজ, ছোলা, বেগুন, ডাল, কাঁচা মরিচ, লেবুসহ অন্যান্য সামগ্রী সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যায়।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, বাজারের চেয়ে অর্ধেক মূল্যে এখানে নিত্যপণ্য ক্রয় করা যাচ্ছে, এতে করে অনেক টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের খুবই উপকারে আসবে।
প্রতিনিধি/টিবি