জেলা প্রতিনিধি
০১ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আজকেই এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১ মার্চ) সকালে এতথ্য জানান ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান। তিনি জানান, রাত ১২টার দিকে নিহত সুফিয়া খাতুনের মেয়ে মর্জিনা খাতুন অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাদ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, তাদের মধ্য থেকেই মূল আসামিকে শনাক্ত করা হবে, মূল আসামি তাদের মধ্যেই রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজকেই রহস্য উদ্ঘাটন হবে ইনশাআল্লাহ।
এর আগে গতকাল মধ্যরাতে বাড়ি থেকে দাদিতে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। দাদির রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির গেটে এবং নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ বাড়ির পাশের সরিষার ক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ভবানিপুর উত্তরপাড়ার জয়নাল খার মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হয় স্থানীয়রা। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে বাড়িতে চলে যান তারা। পরে সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। একপর্যায়ে জামিলাকে খোঁজাখুজির এক পর বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে তার মরদেহ পায় তারা। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাতনি ও দাদির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল তাদের। এর মধ্যে একজন নাতনি জামিলা খাতুনের সম্ভাব্য প্রেমিক বলে জানা গেছে।
নিহতের আত্মায়-স্বজনরা জানান, জামিলা আক্তারের বাবার সঙ্গে মায়ের অনেক আগেই ডিভোর্স হয়েছে। তিন বোনের মধ্যে জামিলা সবার ছোট। ছোট থেকেই জামিলা দাদির সঙ্গে থাকতো। বাবা জয়নাল খা বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাড়িতে দাদি সুফিয়া খাতুন এবং নাতনি জামিলা একাই থাকতেন। জামিলা কোরআনের হাফিজিয়া পড়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী একটি দাখিল মারাসায় ৯ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।
শনিবার আটকদের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে স্বীকার করেনি পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাবনা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানান, জঘন্য এই ঘটনা নিয়ে আমাদের সকল টিম কাজ করছে। আমরা কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি। সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। খুবই শিগগিরই আমরা জড়িতদের আইনের আওয়তায় নিয়ে আসবো।
প্রতিনিধি/টিবি