images

সারাদেশ

যশোরে কয়লা আমদানির নামে ১০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ নারীর বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলে দেওয়ার নাম করে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোরের কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাদের অভিযোগ, সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী এই নিলা নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে অর্থ ফেরত ও বিচার দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মেসার্স এ টু জেড ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান।

সংবাদ সম্মেলনে আনিসুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে নিলা তাকে ব্রড কান্ট্রি এলসি ওপেন করে দেওয়ার টোপ দেন। এরপর যশোরের নয়জন ব্যবসায়ী একজোট হয়ে এলসি করার সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ শতাংশ মার্জিনের শর্তে আনিসুর রহমান ৯ ব্যবসায়ীর পক্ষে নিলার অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি নয় লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর নিলা দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

আনিসুর রহমান জানান, ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজ রেডি করার পর এলসির জন্য চাপ দিলে নিলা তাকে একটি ভুয়া এলসি কপি ধরিয়ে দেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে তিনি ৫০ লাখ টাকার একটি জাল বিএফটিএন কপি এবং একটি ভুয়া এফডিআর কপি দেন। 

প্রতারিত হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নিজেকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রভাবশালী নেতা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ভাঙিয়েও তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, মানব পাচার এবং নথি জালিয়াতির একাধিক সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরে টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান প্রথমে গুলশান থানায় মামলা করলে নিলা গ্রেফতার হন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান। জামিনের শর্ত অনুযায়ী টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি হাইকোর্ট থেকে ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে যশোরের পুলিশ সুপারের সহায়তায় নতুন মামলা হলে পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে পুনরায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। 

আনিসুর রহমান জানান, এর আগেও নিলার নামে চার-পাঁচটি প্রতারণার মামলা ছিল এবং তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য ইশারায় এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে যশোর ও অভয়নগরের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যাংক লোন নিয়ে এলসির টাকা দিয়ে এখন তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। অনেক পরিবার এখন এই প্রতারক চক্রের কারণে দেউলিয়া।

এজন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে তারা এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে নিলাকে জামিন না দেওয়া এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।  

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন ব্যবসায়ী নুর আলম বাবু, মাহমুদ হাসান লিপু, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জিয়া বিশ্বাস ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। 

এ ব্যাপারে ফারজানা ইয়াসমিন নিলার মেয়ে নন্দিতা মেহজাবিন কথা জানান, ওই ব্যবসায়ীরা অনৈতিক পন্থায় আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। ফলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

প্রতিনিধি/ক.ম/