images

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে রোদের হাসিতে মেতেছে সূর্যমুখী

জেলা প্রতিনিধি

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে সূর্যমুখী চাষ। সোনালী রোদে ঝলমল করা বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শুধুই হলুদ রঙের সমারোহ, যা দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই হাসছে। কম খরচে অধিক লাভ এবং তেলের বাজারে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় এই ফসলের আবাদ বদলে দিচ্ছে স্থানীয় কৃষির চিরচেনা চিত্র।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ২৭০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। সাধারণত বীজ বপনের মাত্র তিন মাসের মাথায় ফসল সংগ্রহ করা যায় এবং প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে যমুনার পলিমিশ্রিত চরাঞ্চল ও ধান কাটার পর পতিত থাকা জমিগুলো এখন সূর্যমুখীর দখলে। সদর, কাজীপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় এবার সবচেয়ে বেশি আবাদ লক্ষ্য করা গেছে।

মাঠের এই সৌন্দর্য কেবল কৃষকের চোখে স্বপ্নই বুনছে না, বরং দর্শনার্থীদের কাছেও এক প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ভিড় করছেন এই হলুদের রাজ্যে। দর্শনার্থীদের মতে, এই পরিবেশ কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি মানুষের মমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান বা গমের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকি অনেক কম। প্রতি বিঘায় মাত্র সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তারা। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বালুময় জমিতে যেখানে অন্য ফসল ফলানো কঠিন, সেখানে সূর্যমুখী দিচ্ছে বাম্পার ফলন।

ভানুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন ও ওমরপুর চরের আলতাফ হোসেন জানান, সূর্যমুখী বীজের তেলের চাহিদা ও দাম বাজারে অনেক বেশি। প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেল পাওয়া সম্ভব। এছাড়া তেলের উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বাড়তি আয় নিশ্চিত হচ্ছে। 

GT

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. মনজুরে মাওলা জানান, সিরাজগঞ্জের মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই তেলে থাকা লিনোলিক এসিড হৃদরোগীদের জন্য উপকারী হওয়ায় দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও উৎসাহ প্রদানের ফলে জেলায় এই অর্থকরী ফসলের আবাদ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/একেবি