২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে আগামী দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬১ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সব প্রকার জাল ফেলা ও মাছ শিকার বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে ভোলার জেলে পল্লীগুলোতে মৎস্য বিভাগ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। মৎস্য বিভাগ জানায়, এই সময়ে নদীর অভয়াশ্রমগুলোতে আসা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে, তাই প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ও উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছর এই সময়টিতে মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তবে দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে ভোলার জেলেদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় জীবিকা নির্বাহে তারা হিমশিম খান। জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়ে এনজিওর কিস্তি বন্ধ রাখা এবং যথাযথ খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। শনিবার সকাল থেকে ভোলার তুলাতুলি, কাঠিরমাথা, নাছিরমাঝি, হেতনার খাল, ভোলার খাল ও মাঝিরহাট মাছঘাটগুলোতে দেখা যায়, জেলেরা তাদের জাল ও নৌকাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নদী থেকে উপরে তুলে নিচ্ছেন। সরকারি আইন অমান্য করে তারা নদীতে নামবেন না বলে জানিয়েছেন।
জেলেদের অভিযোগ, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাধারণ জেলেরা নদীতে না নামলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকার করে, ফলে অভিযান ব্যর্থ হয় এবং ইলিশের উৎপাদন কমে যায়। তারা এসব অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। ইব্রাহিম মাঝি ও রহিম মাঝিসহ কয়েকজন জেলে জানান, আজ থেকে তারা আর নদীতে নামবেন না, তাই সরঞ্জাম গুছিয়ে নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ইলিশের সংকট থাকায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এখন নিষেধাজ্ঞার সময় কীভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে তারা দিশেহারা। জেলে আব্দুল্লাহ মাঝি জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল-নৌকা তৈরি করেছেন, এখন মাছ ধরা বন্ধ থাকলে কিস্তির টাকা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মৎস্য আড়তগুলোতেও। আড়তদার হাসান সাজি জানান, জেলেদের পাশাপাশি ব্যাপারী ও পাইকাররাও এই সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়বেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলেদের আর্থিক সংকট নিরসনে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার, যার বাইরেও বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত জেলে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্রতিনিধি/একেবি