images

সারাদেশ

কেজিতে ১০ টাকা লোকসান, আলু চাষে দিশেহারা কৃষক

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ এএম

বাজারে নেই ন্যায্য দাম, নেই ক্রেতার উপস্থিতি। ফলে উৎপাদিত আলু নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের হাজার হাজার কৃষক। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা দাম মিললেও বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৬ টাকা কেজি দরে। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না, উল্টো গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের লোকসান।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। সেই আলুই বিক্রি হচ্ছে ৪–৬ টাকায়; অর্থাৎ প্রতি কেজিতে লোকসান ৯ থেকে ১১ টাকা। দাম এতটাই তলানিতে যে, অনেক কৃষক আলু গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছর এ জেলায় ব্যাপক আবাদ হয়। গত বছর ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এবার হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টরে। আবাদ কিছুটা কমলেও বাজার পরিস্থিতি বিগত কয়েক বছরের চেয়ে আরও খারাপ বলে দাবি কৃষকদের।

গত মৌসুমে লোকসানের পর সরকার ২২ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু কেনার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারান। অনেকেই হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেও শেষ পর্যন্ত কম দামের কারণে তা বের করেননি। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই এবার হিমাগারে সংরক্ষণে আগ্রহ কম, মাঠেই পড়ে আছে হাজার হাজার বিঘা আলু।

আরও পড়ুন—

hr

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর গ্রামের কৃষক আলাউদ্দীন বলেন, ‘এক কেজি আলু উৎপাদনে ১৫–১৬ টাকা খরচ, বিক্রি হচ্ছে ৪–৬ টাকায়। লাভ তো দূরের কথা, আসলই উঠছে না। এভাবে চললে কৃষক টিকবে না।’ 

সদর উপজেলার ঢোলঅরহাটের কৃষক রাজু ইসলাম জানান, ‘গতবার অনেক লোকসান হয়েছে। এবারও একই অবস্থা। ধারদেনা করে চাষ করেছি। সরকার যদি দ্রুত আলু না কেনে, তাহলে আমরা দাঁড়াতে পারবো না।’ 

পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি বলেন, গত বছর ৭ একর আলু চাষ করে ১০ লাখ টাকা ঋণ হয়েছে। এবার আরও ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একই পরিমাণ জমিতে চাষ করেছেন। ‘দাম না পেলে ধারদেনার দায়ে বাড়ি ছাড়া হতে হবে,’ আশঙ্কা তার।

একই গ্রামের কৃষক জীবন আলীর ভাষ্য, ‘ধান-চাল, গরু-ছাগল বিক্রি করে আলু চাষ করেছি। এখন বাজারে দাম নেই। কৃষকদের কোনো শক্ত সংগঠনও নেই। সরকার রফতানির ব্যবস্থা করলে কিছুটা বাঁচা যেত।’ 

ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আলু ব্যবসায়ী আলম বলেন, ‘গত বছর পুঁজি হারিয়েছি। এবারও যদি দাম না বাড়ে, ব্যবসা টিকবে না। বিদেশে আলু যাচ্ছে, তবে পরিমাণ কম। রফতানি বাড়াতে পারলে দামও বাড়বে।’

bdd

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত আলু রফতানি কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ব্যবহার বাড়াতে হবে। আলু থেকে স্টার্চ উৎপাদন সম্ভব, যা ওষুধ ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। দেশে পর্যাপ্ত কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও স্টার্চ আমদানি করা হচ্ছে। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষিদের প্রত্যাশা সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, রফতানি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াবে, যাতে ন্যায্য দাম পেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন তারা।

প্রতিনিধি/একেবি