জেলা প্রতিনিধি
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
সারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার বোরো চাষিরা। নিয়মানুযায়ী বাফার গুদামে সার পাঠানোর কথা থাকলেও ডিলাররা কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তা সরাসরি নিজেদের গুদামে খালাস করছেন। এ উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের বিরুদ্ধে সার খালাসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, নকলা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১০ জন বিসিআইসি এবং ৭০ জন বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই বিসিআইসি ডিলাররা বিভিন্ন সার কারখানা থেকে বরাদ্দ পাওয়া সার বাফার গুদামে না নিয়ে সরাসরি নিজেদের গুদামে খালাস করছেন। পরিবহন ও লোড-আনলোড খরচ বাঁচিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করতে বাফার গুদামের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে তারা এই অনিয়ম চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাফার গুদামের কর্মকর্তা মোরাদুজ্জামান স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করে এসব অনিয়মে মদত দিচ্ছেন। শুধু শেরপুর নয়, পাশের জেলা জামালপুরের আমদানিকৃত সারও এখানে মজুত করা হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ ও ডিলাররা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সার খোলাবাজারে পাচার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার সকালে দুইজন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত সার বাফার গুদামে না নিয়ে অবৈধভাবে নিজস্ব গুদামে মজুত করার সময় স্থানীয় জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা তা হাতেনাতে ধরেন। পরে উপজেলা কৃষি অফিস ও পুলিশ প্রায় ৪৯ টন ইউরিয়া সারসহ ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। তথ্যমতে, ১০৫০ টাকার ডিএপি সার বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকায়, ১৩৫০ টাকার টিএসপি ১৮০০ টাকায়, ১০০০ টাকার এমওপি ১১০০ টাকায় এবং ১৩৫০ টাকার ইউরিয়া ১৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডিএপি সারের চাহিদা বেশি থাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে। ফলে কৃষকরা ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সার না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
জালালপুর গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি ডিএপি সার কিনতে গিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন; তাকে জানানো হয়েছে দোকানে সার নেই।
জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডিএপি সারের কোনো বাস্তব সংকট নেই। আমদানিকৃত সার পরিবহনে কিছুটা বিলম্ব হলেও তা চাষে প্রভাব ফেলার মতো নয়। অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/একেবি