২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘বিএনপির কোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের প্রতি থাকবে না। মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম মুক্ত করা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) যশোরের হোটেল ওরিয়ন ইন্টারন্যাশনালের চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে ইফতার মাহফিল পূর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
প্রতিমন্ত্রী অমিত আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার করেছিলেন তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদের প্রথম সভায় কৃষকদের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফের সিদান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ কৃষকের সুদ এবং আসল মওকুফের জন্য সরকারের তরফ থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঈদের আগে শুরু হচ্ছে ইনশাল্লাহ। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্ম গুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদানের অঙ্গীকার পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে উৎসব ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা করবো। যার ধারাবাহিকতায় আগামীতে সকল জায়গায় কর্মসূচি বিস্তৃতি হবে এবং অন্য ধর্ম গুরুরাও এই সুযোগের আওতায় আসবে।’
‘আমরা জনগণের সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাদের কাছে দেওয়া ওয়াদা রাখার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত আমরা প্রথম মিটিয়ে গ্রহণ করেছি।’
অনিন্দ্য অমিত বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার যশোরবাসীকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি দিতে চাই। আগামী বর্ষা মৌসুমে ৫০ শতাংশ লাঘব করবো। যশোর মাদক, সন্ত্রাস কিশোর গ্যাং মুক্ত করতে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছি। আমি জেলা বিভিন্ন শ্রেণীর পাশের মানুষের কাছে সমর্থন প্রত্যাশী করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক এবং গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই উন্নয়নে কাজ শুরুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ সরকারের প্রথম ১৮০ দিন পর আপনারা (জনগণ) কাঙ্খিত পরিবর্তন দেখতে পাবেন।’
ইফতার পূর্বে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ'র শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এসময় ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। এছাড়া মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আহসান হাবীব, যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, যশোর-২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক হুসাইন সাফায়াত, যশোর চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) মকবুল হোসেন, এলজিইডির সাবেক কর্মকর্তা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকার দাস রতন, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, ঢাবি ফোরাম যশোরের সভাপতি সাইফুল্লাহ খালিদ, সাধারণ সম্পাদক আশফাকুজ্জামান খান রনি প্রমুখ।
প্রতিনিধি/এএম