জেলা প্রতিনিধি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
মাদারীপুরে মরা খালগুলো খননের মাধ্যমে আবার সচল করার উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। তালিকা করে পাঠানো হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন দফতরে। পুরোপুরি খালগুলো চালু করে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে বছরে তিনটি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা। স্থানীয় সংসদ সদস্য বলছেন, সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে রয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের ভুরঘাটা-বয়াতীবাড়ি খাল দিয়ে এক সময়ে চলাচল করতো বড় বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা। পরিবহন করা হতো কৃষি পণ্য। অথচ, সেই খালে নেই কোনো পানিপ্রবাহ। কালের বিবর্তনে এখন কৃষি জমিতেও সংগ্রহ করা যাচ্ছে না পানি। দিশেহারা চাষিরা। শুধু এই খালই নয়, জেলার এমন অসংখ্য খাল গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকদের। তাদের কথা মাথায় রেখে মরা খালগুলো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে যান মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। আশ্বাস দেন খননের মাধ্যমে সচল করার। খুশি প্রান্তিক চাষিরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। আবার কোথাও দখল আর দূষণে অস্তিত্ব সংকটে খালগুলো। সরকারের খাল খনন কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে কৃষিতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, চাঙ্গা হবে অর্থনীতি, বলছেন কৃষকরা। প্রথম পর্যায়ে জেলায় ২৫টি খালের দেড়শো’ কিলোমিটার খনন করা হবে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে এলজিইডি বলছে, মরণদশায় থাকা খালগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা করে পাঠানো হচ্ছে দফতরে। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, খালগুলো খননের মাধ্যমে বছরে তিন ফসল ঘরে তুলতে পারবে কৃষকরা। অবশ্য, তদারকি করে পুরো কার্যক্রম ত্বরিত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য।

গোপালপুর এলাকার কৃষক রহিম শেখ বলেন, আমাদের এলাকার এই খালটি একসময়ে বেশ স্রোতও ছিল। এখন খাল দিয়ে সেচের পানি পাওয়াই কষ্ট। আমরা চাই খালে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ থাকুক। তাহলে চাষাবাদের খরচও কমে যাবে।
কাজীবাকাই এলাকার কৃষক মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি খাল রয়েছে। অথচ, কোনো খালেই পানি নেই। পানির অভাবে ঠিকঠাক চাষাবাদ হচ্ছে না। সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আমরা চাই এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

কালকিনি ও ডাসার উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মরা খালের তালিকা করা হচ্ছে। খুব শিগ্গিরই সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, খালগুলো পরিপূর্ণভাবে চালু করা গেলে এখানকার কৃষকেরা বছরে তিনটি ফসল ঘরে তুলতে পারবে। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি অর্থনীতিতেও বেশ পরিবর্তন আসবে। সেই আশা নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন আনা। সেই লক্ষ্যে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো সংস্থারের মাধ্যমে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন করা হচ্ছে। খুব শিগ্গিরই বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়ে খাল খনন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস