২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
পটুয়াখালীজুড়ে এখন তরমুজ চাষে উৎসবমুখর ও ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আগাম ও মাঝারি জাতের তরমুজের ব্যাপক আবাদ হয়েছে।
কোথাও পাকা ফল তোলার প্রস্তুতি চলছে, কোথাও নতুন ফল ধরছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত লতায় লতায় হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও এই অর্থকরী ফসলকে ঘিরে নতুন স্বপ্নের বুনন চলছে উপকূলীয় অঞ্চলের চাষিদের মনে। নদী ও সাগরবেষ্টিত পটুয়াখালী জেলার চরাঞ্চলগুলোতে এবার তরমুজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রমজানের প্রথম সপ্তাহেই বাজারে তরমুজ তোলার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা। এ জেলায় উৎপাদিত তরমুজ স্বাদে মিষ্টি ও গুণগত মানে উন্নত হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তরমুজ উৎপাদন, পরিবহন, বীজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত মিলিয়ে জেলায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কেবল তরমুজ বিক্রি থেকেই প্রায় ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেতে ইতিমধ্যে আগাম ফলন এসেছে। লাভজনক হওয়ায় পেশাদার কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারাও এখন তরমুজ চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া নদীর চরের চাষি মো. জামাল জানান, আগে একটি কীটনাশক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার তিনি ৯ কানি জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন।
অন্যদিকে গলাচিপার চাষি আব্দুল কাদের হাওলাদার জানান, ধানের তুলনায় তরমুজে লাভ বেশি হওয়ায় এবার আবাদ বাড়িয়েছেন। তবে বীজ, সার ও শ্রমিকের উচ্চমূল্যের কারণে বিনিয়োগের অঙ্কও নেহাত কম নয়। দশমিনার তরুণ চাষি রিপন মোল্লা চাকরি ছেড়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেছেন এবং রমজানে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল, রাঙ্গাবালী ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তরমুজের আবাদ সবচেয়ে বেশি এবং বর্তমানে উৎপাদনে দেশের অন্যতম শীর্ষ জেলা এটি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, গত বছর জেলায় ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এ বছর তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৮০ হেক্টরে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কুয়াশাজনিত রোগ ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। আবহাওয়া ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষ পটুয়াখালীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভাবনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/একেবি