জেলা প্রতিনিধি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০০ পিএম
মাদারীপুরে দখল হয়ে গেছে জেলা পরিষদ থেকে নির্মাণ করা সবগুলো যাত্রী ছাউনি। যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হলেও সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছে অসাধুরা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মিলছে না কোনো সেবা। অপেক্ষমাণ যাত্রীদের স্বস্তি দিতে নির্মাণ করা ছাউনিগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর থাকায় এখন দুর্গন্ধের কারণ। যাত্রী ছাউনিগুলো দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাসের জন্য যাত্রীদের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপরেই অপেক্ষা। যানবাহনে ওঠানামা করছেন এভাবেই। সেইসাথে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। অথচ, আরামদায়ক সেবার লক্ষ্যে নির্মাণকৃত যাত্রীছাউনিগুলো চলে গেছে দখলে।

জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সাধুরব্রিজ বাসস্ট্যান্ডে জেলা পরিষদ থেকে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। বছর না ঘুরতেই সেটি দখলে নেয় অসাধুরা। সেখানে গড়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ সেলুন, ওষুধের ফার্মেসির মতো একাধিক দোকান। অথচ, যাত্রীদের জন্য নির্মাণ করা এই ছাউনির কোনো সুফলই মিলছে না। একই অবস্থায় সদর উপজেলার কলাবাড়িসহ জেলার সবগুলো যাত্রী ছাউনির। ময়লা আবর্জনায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। আবার কোনো কোনো ছাউনি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধরেছে ফাটল। ফলে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নেই টয়লেট কিংবা ফ্যান। রাতে নেই আলোর কোনো ব্যবস্থা। রোদ-বৃষ্টিতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্মাণ করা যাত্রী ছাউনি এখন দুর্ভোগের কারণ।

তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জেলা পরিষদের অধীনে ৬টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। তবে, কত টাকা ব্যয়ে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেই তথ্য পাওয়া যায়নি। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। সেই তুলনায় নতুন করে নির্মাণ হয়নি একটিও যাত্রী ছাউনি। তাই প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
রাজৈরের আমগ্রামের বাসিন্দা মিন্টু বালা বলেন, সাধুরব্রিজ এলাকায় একটি যাত্রী ছাউনি থাকলেও সেটি স্থানীয়দের দোকানপাট পরিচালিত হয়। আমরা এই ছাউনি থেকে কোনো সেবাই পাচ্ছি না।
কলাবাড়ি এলাকার যাত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, সড়কের পাশে গড়ে ওঠা সবগুলো যাত্রী ছাউনি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের অভাব ও ব্যবহার উপযোগী নয় একটিও। কোনটা আবার দখল করে রেখেছেন স্থানীয় লোকজন। আমরা এই যাত্রী ছাউনির সেবা পেতে চাই।

আরেক যাত্রী নুর নাহার বেগম বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক একটি ব্যস্ততম সড়ক। কখন যে কি হয়, সেটা বোঝা মুশকিল। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছি না। এখানে থাকা যাত্রী ছাউনিটা দখল করে নেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী ছাউনিগুলো দখলমুক্ত করার পর সংস্কার করে পরিপূর্ণভাবে পুনরায় চালুর আশ্বাস মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার হোসেন শাহীনের। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন এটিকে দখল করে রেখেছে। তাদের সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এটিকে ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগ্গিরই কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রতিনিধি/এসএস