জেলা প্রতিনিধি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ পিএম
হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করা নিয়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে একটার দিকে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বাঁশি বাজানো ছাড়া হামলাকারীদের প্রতিহত করতে দেখা যায়নি।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষদিন। একইসঙ্গে বিকেল তিনটায় দাখিল করা টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব তার নিজ এলাকার একটি হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করতে উপজেলায় যান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সে তার টেন্ডার শিডিউলটি ফেলেন।
এ সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তার ওপর হামলা করে। সেখানে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ প্রথমে তাদের নিবৃত করে নিচে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর কিছুসময় পর ইউএনও অফিস থেকে নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। তখন 'জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন' বলেই তার ওপর হামলা করে বেধড়ক মারপিট শুরু করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত আনসার সদস্য ও পুলিশ শুধু বাঁচিয়ে। হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পারেনি। হামলাকারীদের মারধরে তাড়া খেয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিব।
ভুক্তভোগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান জানান, আমি ইউএনও সাহেবের কাছে এসেছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার দাখিল করেছে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানতামও না। ইউএনও অফিসের কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্থানীয় এমপি মহোদয় ও উপজেলা জামায়াতের আমিরকে জানিয়েছি, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
হামলাকারীদের মধ্যে মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাবলু মিস্ত্রি, শাহীন আলম, সোহলে রানা, বিএনপি নেতা জাবের মোল্লা, জিয়া মুন্সী, রিন্টু, যুবদল নেতা শাহীন, ছাত্রদল নেতা ইমনসহ শতাধিক নেতাকর্মী জড়িত বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্তদের একজন মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস বলেন, আমরা কয়েকজন গিয়েছিলাম শিডিউল দাখিল করার শেষ সময় জানার জন্য। গিয়ে দেখি দলের ছেলেপুলেদের সঙ্গে ঝামেলা। কার সঙ্গে কী নিয়ে ঝামেলা তাও জানতাম না। পরে শুনেছি, হামলার সঙ্গে আমি জড়িত নই। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ঘটনা একটা ঘটেছে। ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। আজকে টেন্ডার দাখিল ও খোলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কীভাবে ঘটনা ঘটল সেটি আমি বলতে পারছি না। থানার ওসি ভালো বলতে পারবেন। তার সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটলো জানতে চাইলে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, কঠিন প্রশ্ন করেছেন তো, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, ধন্যবাদ।
প্রতিনিধি/এসএস