images

সারাদেশ

লক্ষ্মীপুরে গ্রামবাসীর হাতে আটক চোর ধরতে গিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২২

জেলা প্রতিনিধি

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

লক্ষ্মীপুরে অটোরিকশা চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রামবাসীর রোষানল থেকে আটক করতে গিয়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে পুলিশ ও গ্রামবাসী। এতে সড়ক অবরোধ করা হয়। আহত হয় ৪ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২২ গ্রামবাসী। পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক করা হয় চোর চক্রের ৪ সদস্যকে।

এদিকে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ চলে গেলেও বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘণ্টা লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় রাস্তায় বাঁশসহ গাছের গুড়ি ফেলে আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের হায়দর আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহ আলম তার অটোরিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। এতে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে ৪ জন সন্দেহভাজন চোরকে আটক করেন। অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও চোরেরা ব্যাটারিগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এতে আটকদের বাড়িতে নিয়ে ব্যাটারির জন্য মারধর করা হয়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যাটারি না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছাড়বে না বলে জানায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে হামলা-মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় রায়পুর থানা পুলিশের মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদেরকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

মাগুরায় ভিজিএফ কার্ড নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গ্রেফতার ১৪

এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। তবে এলাকাবাসী লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এসময় প্রায় সড়কের দুই পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

রিকশা চালক শাহ আলম বলেন, আমরা ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য চোরদের আটক করে রেখেছি। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়। তাদেরকে না দেওয়ায় পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, চারজনকে আটকে রেখে পেটাচ্ছে এমন তথ্য ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে আমাদের মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায়। অনেক চেষ্টা করে যখন অভিযুক্ত ৪ জনকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন পেছন থেকে ২০-৩০ জন এলাকাবাসী ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আমাদের এক এসআইসহ ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আটক ৪ চোর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। রিকশা চুরির ঘটনায় মালিক মামলা দিলে মামলা নেব। আর পুলিশ আহতের ঘটনায় মামলা হবে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস