জেলা প্রতিনিধি
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৯ এএম
কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী এলাকার একটি গ্যাসপাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের পর কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় নতুন স্থাপিত একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পের গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো গ্যাস লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
দগ্ধদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
দগ্ধরা হলেন— সাকিব (২৪), মো. সিরাজ (২৪), আব্দুর রহিম (৪৫), মোতাহের (৪৫), কামরুল হাসান (৩০), আবু তাহের (৪৫), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু সাইদ জানান, গুরুতর দগ্ধ আব্দুর রহিম ও আবু তাহেরের শরীরের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে; তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রথম দফায় লিকেজ নিয়ন্ত্রণে আনার পর রাত ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার মোট নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি নেওয়া হয়নি। অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের কয়েকটি স্থাপনা ও যানবাহন পুড়ে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মহাসড়কে দূরপাল্লার যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব না মিললেও কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন বলেন, জনবহুল আবাসিক এলাকায় গ্যাস পাম্প স্থাপন করা বড় ধরনের ঝুঁকি। শুরু থেকেই আমরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম।
আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইমরান বলেন, বসতবাড়ির পাশে এ ধরনের পাম্প অনুমোদন দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে মানুষের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই পাম্প সরিয়ে নিতে হবে।
এদিকে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
প্রতিনিধি/টিবি