জেলা প্রতিনিধি
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ‘এন আলম’ নামের একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে পাম্পটি থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে পাম্পের কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইমরান জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকেই পাম্পটি থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে আতঙ্কিত লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
তিনি আরও বলেন, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল সংলগ্ন আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই ওই এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক দেখা দেয় এবং মানুষ দিকবিদিক ছুটতে শুরু করে।
আগুনের তীব্রতায় আদর্শগ্রাম এলাকার কয়েকটি ঘর পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুরো এলাকায় ধোঁয়া ও গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাসকষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ছড়িয়ে পড়া এলপি গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধ ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন
রাত সোয়া ১২ টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এএইচ