জেলা প্রতিনিধি
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ফরিদপুরে একটি চিনিকল থেকে নির্গত অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর এভাবে বর্জ্য নদীতে পড়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সম্প্রতি নদীতে মাছ মরার ঘটনাও দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে সরকারি উদ্যোগে মিলটি স্থাপন করা হয় এবং ১৯৭৬ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে আখ মাড়াই মৌসুমে মধুখালী থেকে বামুন্দী–বালিয়াকান্দী সড়কের ব্রিজসংলগ্ন এলাকা হয়ে, মধুখালী থানা গেটের পাশের একটি খাল দিয়ে মিলের কালো বর্জ্যপানি চন্দনা-বারাশিয়া নদীতে গিয়ে মিশছে। স্থানীয়দের মতে, উৎপাদন মৌসুমে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
নদীর উজান এলাকার প্রায় ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত মিলটি ওই খালপথেই বর্জ্য নিষ্কাশন করে বলে জানা গেছে। মিল এলাকা অতিক্রমের সময় তীব্র রাসায়নিক দুর্গন্ধ টের পাওয়া যায়। ফলে অনেক পথচারী নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করেন।
পৌরসভার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চারটি গ্রামের অন্তত ছয় হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ ও পানি দূষণের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। খালটি বিদ্যালয় ও বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মধুখালী আইডিয়াল একাডেমি ও ফরিদপুর চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং মিলগেট বাজারের ব্যবসায়ীরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা মির্জা মুরাদ হোসেন জানান, নদীর এক পাশের পানি তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকলেও অন্য পাশ কালচে হয়ে গেছে। এক মাস আগেও পানি পরিষ্কার ছিল। বর্তমানে দূষণের কারণে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
নদীতীরের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘পানির রং পরিবর্তিত হওয়ায় এখন কাপড় ধোয়ার কাজও করা যাচ্ছে না।’
ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, ‘নদী পরিদর্শনের সময় দূষিত পানির প্রভাবে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।’
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, মিল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) রয়েছে এবং বর্জ্যপানি নিজস্ব পুকুরে ফেলা হয়। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকার বায়ু আজ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’
পরিবেশ অধিদফতর ফরিদপুরের উপপরিচালক সাঈদ আনোয়ার বলেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত পরিদর্শক পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, মিলের বর্জ্যের কারণে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মিল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ফারহাদ বলেন, ‘সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। চুন ও সালফার ডাই-অক্সাইড পানির সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। বর্জ্য নিজস্ব পুকুরে ফেলা হয়। তবে তরল হওয়ায় কিছু পানি মাটির নিচ দিয়ে চুঁইয়ে নদীতে যেতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই বর্জ্যপানি নদীতে না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/এমআই