জেলা প্রতিনিধি
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দূষণ রোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), বিআইডব্লিউটিএ এবং পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শহরের শিমরাইলকান্দি মসজিদঘাট থেকে মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা নৌকায় করে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। এ সময় তিনি নদীর দুই পাড়ে অবৈধ ভরাট, গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা, বাজার ও গৃহস্থালির বর্জ্যে নদী দূষণের চিত্র সরেজমিনে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণ তিতাস নদী আজ বিলীন হওয়ার পথে। নদীর দুই পাশে যেভাবে গৃহস্থালি ও বাজারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এবং ভরাট করে অবৈধ দখল করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন সিএস নকশা অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ করা হবে। আমরা দেখেছি, তিতাস পাড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ স্থাপনাই নদীর জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। বুড়িগঙ্গা নদীর আদলে এখানে একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে নদীটি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। দখলদারদের উচ্ছেদের পর নদীর দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এর জন্য জনসচেতনতা সবচেয়ে জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মো. শরীফুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) ও প্রশাসক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা; আকাশ দত্ত, নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড; মোহাম্মদ নাহিদ হোসেন, কর্মকর্তা, আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদী বন্দর (বিআইডব্লিউটিএ); এম এম রকীব উর রাজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল); জাবেদ রহিম বিজন, সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব।
এছাড়া নদী রক্ষা, খনন ও সীমানা নির্ধারণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ-র কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি/একেবি