জেলা প্রতিনিধি
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
মাদারীপুরে রমজান উপলক্ষ্যে কদর বেড়েছে মৌসুমি ফলের, সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। জেলার সবচেয়ে পাইকারি পাইকারি ফলের আড়তেই এই চিত্র। এতে ক্ষুব্ধ পাইকাররা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা মাদারীপুরের মোস্তফাপুর ফলের আড়তে আসছেন যশোর, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, চুয়াডাঙ্গা বিভিন্ন জেলার পাইকাররা। ফল কিনতে এসে হতাশা তারা। পাইকারদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে বাড়ানো সব ধরনের ফলের দাম। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। আড়তদারদের দাবি, একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে সরবরাহে রয়েছে ঘাটতি, তাই কিছুটা বেড়েছে দাম।

জানা যায়, প্রকারভেদে প্রতিপিস তরমুজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। আর প্রতিপিস আনারস ৩৫ থেকে ৫৫ টাকা, ফুটি প্রতিপিস ৪০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেয়ারা, আপেল, খেজুর, আঙুর, মালটা, কমলা বিভিন্ন রকমের ফলের দাম পাইকারিতে বেড়েছে ৩০-৬০ টাকা পর্যন্ত।

মো. এলেম নামে এক পাইকার অভিযোগ করে বলেন, ‘আনারসের পিস এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮-২৫ টাকা। সেটি একলাফে এখন ৫০ টাকার উপরে। আমি বেশি দামে কিনলেও বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি না।’
সামাদ শেখ নামে আরেক পাইকার বলেন, ‘আড়তে এখানে ফল কিনতে আসি ১৫ বছর ধরে। কিন্তু রমজান আসলে ফলের দাম বেড়ে যায়। আড়তদাররা বলে, সরবরাহ নেই, তাই দাম বেড়েছে। আমরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে মহাবিপদে পড়েছি।’

মোস্তফাপুর ফলের আড়তের আড়তদার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আড়তে ফল কম আসছে, চাহিদা বেশি, তাই দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।’
সালাউদ্দিন মোল্লা নামে আরেক আড়তদার বলেন, ‘রমজানে প্রচুর চাহিদা ফলের, কিন্তু আমদানি নেই। চাষিরা ফল দিতে পারছে না। তাই দাম বৃদ্ধি পাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রমজান উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অভিযোগ পেলে নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।’
প্রতিনিধি/এসএস