জেলা প্রতিনিধি
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২০ পিএম
দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় এবারও লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। সেই লক্ষ্যেই বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু চাষিরা। তবে লিচু সংরক্ষণের জন্য জেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
দিনাজপুর জেলা জুড়েই লিচুর আবাদ হয়ে থাকে। এ জেলার লিচু সুস্বাদু ও উন্নত মানের হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে বিরল উপজেলার মাধববাটি–রবিপুর এলাকায় উৎপাদিত লিচু দেশের উৎকৃষ্টমানের লিচু হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সদর উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির ভিটা, উঠান ও আঙিনায় লিচুর গাছ লাগানো রয়েছে। বেশি লাভের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু চাষিরা।
কিন্তু জেলায় লিচু সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ লিচু পচে নষ্ট হয়। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন উৎপাদনকারী কৃষকরা।
লিচু চাষি সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত বছরের তুলনায় এবারও গাছে ভালোভাবে মুকুল এসেছে। তাই নিয়মিত গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া হচ্ছে, যেন মুকুল ঠিকমতো রস পায় এবং কোনোভাবে নষ্ট না হয়। পাশাপাশি স্প্রে করে প্রয়োজনীয় ওষুধও ছিটানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লিচুর মৌসুমে খুব দ্রুত লিচু বিক্রি হয়ে যায়। যদি এই লিচু কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যেত, তাহলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমাদের এলাকায় লিচু সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার স্থাপন করা হোক।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, বিরল উপজেলায় ২ হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষাবাদ হচ্ছে। এখানে বোম্বাই, মাদ্রাজী, বেদানা, চায়না-থ্রি, চায়না-টু ও কাঁঠালি জাতের ফলন ভালো হয়। এবারেও প্রতিটি গাছে গাছে লিচুর মুকুল দেখা দিয়েছে। লিচুর মুকুল যেন নষ্ট না হয় তাই চাষীদের সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
প্রতিনিধি/ এজে