জেলা প্রতিনিধি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও–১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শপথ গ্রহণের পর জেলা শহরের বিএনপি কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে কর্মী–সমর্থকেরা মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উদ্যাপন করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান। জেলা বিএনপি কার্যালয়ে নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগ করেন। শপথ শেষ হতেই কার্যালয় চত্বরে শুরু হয় উচ্ছ্বাস— করতালি, স্লোগান আর মিষ্টি বিতরণে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

জেলা বিএনপি কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আনারুল ইসলাম শপথের খবর নিশ্চিত হতেই দৌড়ে গিয়ে দুই কেজি মিষ্টি নিয়ে আসেন। উপস্থিত নেতা–কর্মী ও আশপাশের লোকজনের মাঝে তিনি নিজ হাতে মিষ্টি বিতরণ করেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “স্যার পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন— এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। খুব ভালো লাগছে।”
পৌর শহরের বাসিন্দা ও মুদি ব্যবসায়ী আবুল হাশেম বলেন, “আলমগীর স্যার পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘদিন অবহেলিত ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছি।” স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন মন্ত্রীর কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন তিনি।
প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকার উন্নয়নে সরাসরি কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা অনেক— তিনি তা পূরণে সক্ষম হবেন।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, “দেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এ দায়িত্ব এসেছে। এতে জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ বিরাজ করছে।”
নির্বাচনে জয় ও রাজনৈতিক পথচলা :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।
১৯৪৮ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা পেশায় প্রায় ১৭ বছর কাটানোর পর ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে দলের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার নতুন সরকারে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও সেবামুখী কার্যক্রমে নতুন গতি পাবে ঠাকুরগাঁও।
প্রতিনিধি/ এজে