জেলা প্রতিনিধি
১৭ জুলাই ২০২২, ১২:১৩ এএম
কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্কুল,কলেজ,শপিংমল, কোচিং সেন্টার, এলাকার বিভিন্ন অলি-গলিতে বখাটে ও টিনএজআরসহ বিভিন্ন উঠতি বয়সের বখাটে ছেলেদের কাছে প্রায়ই কুমিল্লার মেয়ে-কিশোরীদের যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়। সেসব থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা পড়ুয়া কুমিল্লার মেয়ে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে নগরীর চাকরিজীবী ও গৃহিনীরাও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
কুমিল্লা ড্রাগন কারাতে এসোসিয়েশনের উদ্যোগে মেয়েদের আত্মরক্ষায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এ এসোসিয়েশন আত্মরক্ষায় কুমিল্লায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কুমিল্লা নগরীর স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে ও নগরীর ঈদগাহতে ভোরে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এতে বিভিন্ন ব্যাচে দুই থেকে আড়াই শতাধিক মেয়ে অংশ নেয়।
বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের কোচ এস ইসলাম শুভ তাদের আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে তাদের ধারণা প্রদান করাসহ প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ নিতে আসা শিক্ষার্থী সোমা ও নীলা বলেন, "পথ চলতে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়। সম্প্রতি কুমিল্লায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। তাই নিজেরা নিজেদের আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে কারাতে প্রশিক্ষণে আসা। প্রথম দিকের আলোচনা ও শারীরিক কসরতে মনে হচ্ছে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।"

কুমিল্লার একটি স্কুলের শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার প্রীতি বলেন, 'তিনি সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসা ফেরেন। সঙ্গে কোনো পুরুষ সঙ্গী থাকেন না। অনেক সময় তিনি বাজে আচরণের শিকার হন। প্রশিক্ষণে এসে নিজেকে রক্ষার কৌশল শেখার চেষ্টা করছেন।'
কারাত প্রশিক্ষক এস ইসলাম শুভ বলেন, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল জানতে হবে। মানসিক মনোবল আর কিছু কৌশল আয়ত্ব করলে তারা যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা ড্রাগন কারাতে এসোসিয়েশন ৪৫ বছরের প্রাচীন সংগঠন। সংগঠনের উদ্যোগে মেয়েদের বিনামূল্যে এক মাসের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম থেকেই মেয়েরা ভালো সাড়া দিচ্ছে। আগেও আমাদের সংগঠন থেকে পাঁচ শতাধিক মেয়ে কারাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু ঢাকা মেইলকে বলেন, 'এস ইসলাম শুভ আন্তর্জাতিক মানের কারাতে প্রশিক্ষক। নারীদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর উদ্যোগটি ব্যতিক্রম। উদ্যোগটির সফলতা কামনা করছি।'
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মো. সহিদুর রহমান বলেন, 'কুমিল্লার মেয়েরা আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে কারাতে শিখে নিজেদের সেইফটিকে নিশ্চিত করছেন। নগরীতে একা চলার সময় অনেক খারাপ মানুষের সম্মুক্ষিন হতে পারে। তখন তারা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য কারাতে কাজে লাগবে।'
প্রতিনিধি/এমএএম