images

সারাদেশ

গাজীপুরের ২ মহাসড়কে গাড়ির চাপ, বাড়তি ভাড়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

জেলা প্রতিনিধি

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

ভোটের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণার পর স্বজন, পরিবার নিয়ে গ্রামের পথে ছুটছেন পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এজন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রায় ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ করছেন যাত্রীরা। এতে মহাসড়কে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে‌ দিলে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। যানজট নিরসন ও যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে গাজীপুর মহানগর, জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসাবে পরিচিত গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে উত্তরবঙ্গে ২২ জেলার  বিভিন্ন রুটের যানবাহন চলাচল করে। ভোটের ছুটিতে এসব অঞ্চলের মানুষ একসঙ্গে গ্রামের বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছে। ফলে সড়ক ও মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে। এতে মহাসড়কের চন্দ্রা ও আশেপাশের এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহসাড়কেও যানবাহনের চাপ বেড়ছে।

চান্দনা চৌরাস্তায় দেখা গেছে, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই পয়েন্টে যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ এনে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন যাত্রীরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা নিরসন করলে ফের যান চলাচল শুরু হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি ফিরতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছাতে যানবাহনে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ কারণে আন্দোলন করছেন তারা। এছাড়া যানজটের কারণে নাকাল হচ্ছেন অনেকে যাত্রী।

ঢাকা থেকে শেরপুর যাচ্ছেন পোশাক শ্রমিক আলেয়া। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ভোর ৪টার রওনা দিয়ে ৭টায় চান্দনা চৌরাস্তায় পৌঁছেছেন।

তিনি বলেন, মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে প্রচুর মানুষ। একারণে যানজট হয়েছে। ভোট দিতে আগ্রহ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে এখন ভোগান্তিতে পড়েছি।

আন্দোলনরত অপর এক শ্রমিক বলেন, কিশোরগঞ্জ থেকে চৌরাস্তার ভাড়া দুইশ টাকা। এখন ভাড়া চাইতেছে ৬-৭শ টাকা। আমরা বাড়ি গেলেও অনেক কারখানা মালিক বেতন পরিশোধ করেনি। ধার দেনা করে বাড়ি ফিরছি কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বেশি আদায় করছে।

 

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আশরাফুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনরত যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ভোটের সরকারি ছুটির কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটা বেড়েছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। সংকট নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী কাজ করছে। এছাড়া ভোটের পরিবেশ উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি