images

সারাদেশ

মাদারীপুরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ‘গ্যাং কালচার’, আতঙ্কে মানুষ

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

মাদারীপুরে কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার’ বা সংঘবদ্ধ অপরাধ ভয়ঙ্কর রূপ পেয়েছে। এলাকার আধিপত্য ধরে রাখতে বেপরোয়া ১৪-১৬ বছর বয়সী কিশোররা। দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ, বসতঘর-দোকানপাট ভাংচুরের খবর প্রতিনিয়তই পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেই হাতবোমা (ককটেল বোমা) ফাটিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে গ্যাংয়ের সদস্যরা। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ বলছে, প্রতিরোধ প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ জরুরি।

মাদারীপুরের অপরাধ পরিসংখ্যান বলছে, কিশোর গ্যাংদের দৌড়াত্ম বাড়ায় গত এক বছরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এখানকার অপরাধের মাত্রা। এই সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা আর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৩০টি, যার বেশিরভাগই পৌর এলাকায় ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে হাতেগোনা দুই-একটি।

জানা গেছে, মাদারীপুর শহরে যে কয়টি কিশোর গ্যাং-এর হামলার ঘটনা ঘটেছে, সবগুলোই সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টার মধ্যে। এমনকি পুলিশের সামনেই কিশোর গ্যাং-এর দুইপক্ষ একের পর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরব ভুমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বটতলা, জেলা পরিষদ, বাদামতলা, ইউআই স্কুল রোড, আমিরাবাদ, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং।

স্থানীয়রা বলছেন, দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালাচ্ছে কিশোর গ্যাং। একের পর এক সংঘর্ষে ভাংচুর করা হচ্ছে বসতঘর-দোকানপাট। ফলে বাসাবাড়ি থাকা আর রাস্তাঘাটে চলাচলে বাড়ছে আতঙ্ক।

স্থানীয় ও পুলিশের ভাষ্য, মূলত আধিপত্য বিস্তার আর রাজনৈতিক সুবিধার আড়ালে এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে যোগ দিচ্ছে ১৪-১৬ বছর বয়সী বখাটে কিশোররা।

কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছেন আল শাহরিয়ার করিম। তিনি মাদারীপুর পৌরসভার বটতলা এলাকার বাসিন্দা। তার বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর হয়েছে।

শাহরিয়ার করিম বলেন, ‘আমি কোন দল করি না, কোন রাজনীতির সাথেও যুক্ত নই। অথচ, কোনো কারণ ছাড়াই আমার বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর করা হয়েছে।’ 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রায়ই কিশোর গ্যাং-এর দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। অথচ প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকছে। এতে গ্যাং-এর সদস্যরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।’

এই ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘আমরা এর প্রতিকার চাই।’

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দুইপক্ষ মারামারি করে। বোমা ফাটিয়ে আনন্দ করে। অথচ ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের।’

‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে, মাঝে মাঝে মালামাল লুটও হয়। হাতবোমার বিকট শব্দে বাসাবাড়ি থাকাও দায় হয়ে পড়েছে’, অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।

জেলা পরিষদ এলাকার বাসিন্দা সন্ধান দাসও পুশিলের নিরব ভুমিকার সমালোচনা করেন।

সন্ধ্যান দাস বলেন, ‘দুইপক্ষ মারামারি করে, আর পুলিশ প্রথমে দর্শকের ভুমিকায় থাকে

‘সাথে সাথে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে কিশোররা ভয়ে দৌঁড়ে পালাতো, আমরা চাই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বেশি তৎপর হোক। তাহলে কিশোর গ্যাং-এর কোনো অস্বিত্বই থাকবে না’, বলেন তিনি।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, আইনীভাবে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলাও হয়েছে, কয়েকজনকে গ্রেফতারও হয়েছে।

‘কিশোর গ্যাং নির্মূলে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন’, বলে মনে করেন পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর।

প্রতিনিধি/এএম