জেলা প্রতিনিধি
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মানুষ অনেক কষ্টে আছে। প্রয়োজনের সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না, ওষুধ পাওয়া যায় না। সেজন্য আমরা ক্ষমতায় গেলে হাসপাতালগুলো মেরামত করবো, ডাক্তারের ব্যবস্থা করবো। এজন্য আমরা হেলথ কেয়ারার নিযুক্ত করতে চাই। যে হেলথ কেয়ারারের কাজ হবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে, ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের মাঠে বিএনপির বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তারেক রহমান বরিশালে নির্বাচনী জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুরে আসেন।
তারেক রহমান বলেন, যে সকল চিকিৎসাসেবা ঘরে বসে দেওয়া যায়, ছোটখাটো অসুখে যাতে মা-বোনদের কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে না হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে। ঘরে বসেই তারা ওষুধ পাবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয় ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে। ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক পাবে।
নারী ও শিশুদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেবে।
পানির সংকট নিরসনে ফরিদপুর অঞ্চলে পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।
বিশেষ একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এক গোপন দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে দিতে পারি, তাহলে ১৩ তারিখ থেকেই বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।
জনসভায় বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচটি জেলার ১৫ জন ধানের শীষের প্রার্থীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই প্রথমবার তারেক রহমান ফরিদপুরে জনসভা করতে এলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানকে এক নজর দেখতে ও তাঁর বক্তব্য শুনতে দুপুর ১২টা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড়ে কলেজের মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে আশপাশের এলাকা লোকারণ্যে পরিণত হয়।
সভায় বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলার দলীয় ১৫ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। প্রার্থীদের কাছ থেকেও তিনি এলাকার সমস্যা সম্পর্কে জানেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে সমাবেশের সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব একে কিবরিয়া স্বপন।
সবশেষে উপস্থিত সকলের সঙ্গে করবো কাজ গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ শপথের মাধ্যমে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
এআর