images

সারাদেশ

চট্টগ্রাম বন্দরে ফের শাটডাউন ঘোষণা

জেলা প্রতিনিধি

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি (নন-কাস্টমস টার্মিনাল) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে টানা তিনদিনের শাটডাউন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের আরও ১২ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে দু‘দফায় মোট ১৬ জন কর্মচারীকে বদলি করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

আর এই বদলির কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ফের ২৪ ঘণ্টার শাটডাউন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন শ্রমিকরা। ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্দর ভবন চত্বরে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. ইব্রাহিম খোকন, আনোয়ারুল আজিম, ফরিদুর রহমান ও শামসু মিয়া টুকুসহ বদলি করা সব শ্রমিকদল নেতা।

শ্রমিকদল নেতারা বলেন, গত শনি থেকে সোমবার পর্যন্ত ঘোষিত কর্মসূচিতে বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। কর্মবিরতির কারণে বন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আমদানি পণ্যের ডেলিভারি বন্ধ, কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্থগিত এবং বন্দরের ভিতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

এই তিনদিন আট ঘণ্টা ধরে টানা কর্মবিরতির কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বন্দর ব্যবহারকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো চার জন এবং দ্বিতীয় বারের মতো ১২ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন শ্রমিকরা। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ২৪ ঘণ্টার শাটডাউন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিও আগের মতোই মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে প্রতিদিন আট ঘণ্টা ধরে পালন করা হবে।    

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ১২ জন কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় বদলি আদেশ জারি করা হয়। এর মধ্যে একটিতে সাত জনের নাম রয়েছে। আরেকটিতে পাঁচ জনের নাম রয়েছে। 

বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসারের সই করা এক আদেশে এই বদলি করা হয়। তবে বদলির আদেশে জরুরি দাফতরিক ও অপারেশনাল কাজে তাদের বদলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, রোববার দুই দফায় বদলি আদেশ জারি করা হয়। এর মধ্যে একটিতে সাত জনের নাম রয়েছে। তারা হলেন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি ও প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া। এর মধ্যে চার জনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপোয় ও তিন জনকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে বদলি করা হয়।

আরেক আদেশে যে পাঁচ জনের নাম রয়েছে তারা হলেন উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টেনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, ড্রাইভার মো. লিয়াকত আলী ও আমিনুর রসুল বুলবুল ও খালাসি মো. রাব্বানী। তাদের পানগাঁও আইসিটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বদলি বা পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে তাদের।  

এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবীর (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (১ম শ্রেণি-নৌ বিভাগ) উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ), এসএস খালাসি মো. ফরিদুর রহমানকে (প্রকৌশল বিভাগ) বদলি করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, রোববার দুটি পৃথক দাফতরিক আদেশে ১২ জনকে বদলি করা হয়েছে। জরুরি দাফতরিক ও অপারেশনাল কাজের প্রয়োজনে তাদের বদলি করা হয়।

এদিকে বন্দরের টার্মিনাল এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার তৃতীয় দিনের কর্মবিরতিতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। ৪টার পর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। কর্মবিরতির কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর।

যা বললেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা 
চট্টগ্রাম বন্দরে এমন অস্থিরতা নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করবে না সরকার। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তিনি বলেন, বন্দর কিংবা দেশের জন্য যা মঙ্গলজনক ও কল্যাণকর, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সেটিকেই সমর্থন করে। দেশের স্বার্থে বন্দর সচল রাখা সবার দায়িত্ব। বন্দরে উদ্ভ‚ত পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যে বিষয়কে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত সরকার বাস্তবায়ন করবে না এ বিষয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

প্রতিনিধি/এমআই