জেলা প্রতিনিধি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ আওয়ামী লীগের আমলে কিছুটা বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজনীতিতে হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা আগে কখনোই বর্তমানের মতো এতো প্রকটভাবে লক্ষ্য করা যায়নি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর সোনাপট্টি এলাকায় রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, ‘বিগত দিনে সব দল প্রতিযোগিতা করলেও আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্য ছিল; আমরা একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি, বৈঠক করেছি, এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছি। কিন্তু এখন সেই পরিবেশ আর নেই। রাজনীতিতে এখন শালীনতা ও শিষ্টাচার হারিয়ে গেছে; অশালীন ভাষায় কথা বলা হচ্ছে। সহনশীলতা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি। আমি মনে করি, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অনেক কিছুরই পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং এটি অনেক বিষয়ের ‘কবর’ রচনা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯০ সালে এরশাদ সাহেব পদত্যাগ করার পর অনেক প্রভাবশালী নেতা ও পক্ষ একক বা সম্মিলিতভাবে বলেছিল জাতীয় পার্টি ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জেলখানা থেকে ৫টি আসনে জয়ী হয়ে প্রমাণ করেছিলেন দল কতটা শক্তিশালী। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় না থাকলেও রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এখনও করছে। প্রতিপক্ষরা বারবার দলটিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করেছে, নির্যাতন ও মামলার মাধ্যমে দলকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে রংপুরের মানুষ পরম মমতায় এই দলটিকে আগলে রেখেছে এবং নিজেদের দল হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে বারবার আমাদের দলের পুনরুত্থান হয়েছে এবং বর্তমানেও আমরা দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছি।’
জাতীয় পার্টি সম্পর্কে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিগত দিনে যারা আমাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য বা জুলুম করেছে, আমরা দেখেছি আল্লাহ জুলুমবাজদের ছাড় দিলেও ছেড়ে দেন না। আমাদের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের অনেকেরই করুণ পরিণতি হয়েছে। আমি মনে করি, বর্তমানের জুলুমবাজদেরও হয়তো সময় দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বিচার হবেই।’
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রতিনিধি/একেবি