জেলা প্রতিনিধি
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘আপনারা যদি বিনা পয়সায় আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তবে চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও ঋণখেলাপিদের ঘুম হারাম করে দেব।’
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের বনকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও টেন্ডারবাজদের প্রশ্রয় দেবেন না। মাদক, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষ কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না। রাজনীতিতে অপরাধীদের সঙ্গে আপসের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন যে, দেবিদ্বারের অনেক প্রভাবশালী নেতা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সম্রাটদের কাছ থেকে মাসোয়ারা ও চাঁদা আদায় করে আসছেন।
অতীতের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কিছু নেতা সামান্য সাহায্য-সহযোগিতা করে দরবেশ সাজেন এবং টুপি পরে ভোট চাইতে আসেন। এদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
প্রতিপক্ষের হুমকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধীরা এখনই হুমকি দিচ্ছে যে, নির্বাচনের পর তারা ঘরবাড়ি তছনছ করবে। আপনারা ভয় পাবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা মাত্র ১০ দিন কষ্ট করে আমাকে সংসদে পাঠান, ইনশাআল্লাহ আমি পরবর্তী পাঁচ বছর আপনাদের পাশে থেকে বিনা মূল্যে সেবা দিয়ে যাব।’
ভোটের পবিত্রতা রক্ষা প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ব্যাংক ডাকাতের মতো যেন কেউ ভোট ডাকাতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
নারী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আপনারা আমার জন্য কাজ করবেন। প্রতিদিন অন্তত ১০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলবেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে ভোট নিশ্চিত করবেন। সবার কাছে হাসিমুখে 'শাপলা কলি' প্রতীকে ভোট ও দোয়া চাইবেন।’
উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ছিহমান, উত্তর ইউনিয়নের আমির জসিম উদ্দিন পাঠান, শিবির নেতা নাঈম, হাফেজ মাওলানা শাহআলম এবং ওয়ার্ড সভাপতি মো. সোহেলসহ স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপি-র নেতৃবৃন্দ।
প্রতিনিধি/একেবি