জেলা প্রতিনিধি
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, কিন্তু এবার সবাই ভোট দিতে চায়। জনগণ এবার তাদেরই নির্বাচিত করবে যারা অতীতে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেনি এবং গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষায় ত্যাগ স্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া ইউনিয়নের পুরাতন গড়েয়া সাহাপাড়ায় এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখেই আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন সময় এসেছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমরা এমন একটি সরকার গঠন করতে চাই, যা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে। এই মুহূর্তে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে যোগ্য দল।’
আন্দোলনে দলের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র রক্ষায় ছয় বছর কারাবরণ করেছেন। স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি দীর্ঘ নয় বছর রাজপথে ছিলেন। দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গত দেড় দশকে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করেছেন। বিএনপি সর্বদা স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকারে বিশ্বাসী।
বিগত সময়ে বিএনপি সরকারের সাফল্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছে এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। আমরা সবসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই মিলে কাজ করলে দেশকে উন্নতির শিখরে নেওয়া সম্ভব। বিভেদ নয়, ঐক্যের মাধ্যমেই শান্ত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়া যাবে।’
সবশেষে তিনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, সবাই একজোট হয়ে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করি এবং দেশকে শান্তি, উন্নয়ন ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিই।’
আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বড় জয়ের ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধি/একেবি