জেলা প্রতিনিধি
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
সকালবেলায় পার্বতীপুরের মেরিয়া গ্রামের মাঠে পা রাখলেই চোখে পড়ে এক অপূর্ব দৃশ্য। চারদিকে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে নানা রঙের বাহারি ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে রঙিন ফুলের সমাহার, কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায়—এসব আসলে ফুল নয়, এক ধরনের রঙিন ফুলকপি।
এই রঙিন ফুলকপি কেবল মাঠের সৌন্দর্য নয়, বদলাচ্ছে এখানকার কৃষকের ভাগ্য, প্রতিদিনের পরিশ্রমে জন্ম দিচ্ছে নতুন আশা।
মুজাহার হোসেনের মতো চাষিরা আজ এই রঙিন ফুলকপির মাধ্যমে স্বপ্ন বুনছেন। গত বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ২০ শতক জমিতে চাষ করেছিলেন। ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় এবার প্রায় ২ একর জমিতে চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন।
তরুণ কৃষক মুজাহার হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমি সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। পোকামাকড় দমন করতে ফেরোমন ফাঁদ ও আলোক ফাঁদ ব্যবহার করেছি, যার ফলে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়েছে। শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি ছিল, তবে ফলন দেখে এখন আমি খুবই আশাবাদী। আমার স্ত্রীও আমাকে উৎসাহ দিয়ে চলেছে। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই ফুলকপি চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই গ্রামের এন্তাজুল ইসলাম রঙিন ফুলকপির চারা উৎপাদন ও সরবরাহ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কৃষি বিভাগের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে নিজের খামারে চারা উৎপাদন করি। ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই এসব চারা চাষিদের কাছে সরবরাহ করেছি। চারা বিক্রির পাশাপাশি নিজের জমিতেও রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে চাহিদাও অনেক। তাই ভবিষ্যতে এই চাষ আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজীব হুসাইন বলেন, পার্বতীপুরের উর্বর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর রঙিন ফুলকপির ফলন ও বাজারমূল্য দুটোই ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা চাষিদের প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছি। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার, সেচ ও পরিচর্যার বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। এর ফলেই রঙিন ফুলকপির চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি প্রকল্প কর্মকর্তা আবু রেজা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারের কৃষি উন্নয়ন ও টেকসই প্রকল্পের আওতায় রঙিন ফুলকপি চাষকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাষিদের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় রঙিন ফুলকপির চাষ বাড়ছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় আগামী মৌসুমে চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।
প্রতিনিধি/এসএস