জেলা প্রতিনিধি
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
লক্ষ্মীপুরে মা হালিমা আক্তারের চোখের সামনে ড্রাম ট্রাকচাপায় অকালে ঝরে গেল পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী উম্মে জাহান আরেফিনের তাজা প্রাণ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লক্ষ্মীপুর এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে রাস্তার অন্য পাশে বেপরোয়া ড্রাম ট্রাকচাপায় স্কুল শিক্ষার্থী আরফিন নিহত হয়।
আরফিনের স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার। সেই স্বপ্ন কেড়ে নিল বেপরোয়া ড্রাম ট্রাক। আরফিনের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় নিহত আরফিনের বাড়িতে গেলে তার মা হালিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঢাকা মেইল প্রতিবেদকের কাছে মেয়ের স্বপ্নের কথাগুলো বলেন।
বিহত আরফিন কাকলী শিশু অঙ্গনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ক্লাস রোল-(২)। সে দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় মালেশিয়া প্রবাসী আক্তার হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আরফিনের মা হালিমা আক্তার তার মেয়েকে একটি অটোরিকশায় তুলে দেয়। দক্ষিণ তেহমুনী সংলগ্ন কাকলী শিশু অঙ্গন স্কুলটিতে যাওয়ার জন্য। মুহূর্তে ঢাকা লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের জকসিন দিকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া একটি ড্রাম ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশাটিকে সরাসরি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় শিক্ষার্থী আরফিন ও অটোরিকশা চালক রাজুকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া নেয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আরফিনকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য অটোরিকশা চালক রাজুকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়।
স্কুল-শিক্ষার্থী আরফিনের মা হালিমা বলেন, আজ স্কুল বন্ধ ছিল। আরফিন তার বান্ধবীর জন্মদিনে যাবে। এজন্য গতকাল তার বান্ধবীর জন্য উপহার কিনছে। সকালে ডিম-রুটি খাওয়ায়ে আমি নিজেই মেয়েকে অটোরিকশায় তুলে দিলাম। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের সামনে মেয়েটা শেষ হয়ে গেল। সবসময় আরফিন বলতো মা আমি পড়ালেখা করে শিক্ষক হব। শিক্ষককে সবাই সম্মান করে। আমাদেরও স্বপ্ন ছিল তাকে ভালো স্কুল-কলেজে পড়ানো। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে রায়পুর কাজী ফারুকী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করার।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অরূপ পাল ঢাকা মেইলকে জানান, স্কুল শিক্ষার্থী আরফিনকে আমরা মৃত পেয়েছি। অন্য এক আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় রেফার করি। পরিবার নিজ দায়িত্বে লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার (ওসি- তদন্ত) ঝলক মহন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক চালক পলাতক রয়েছে। ড্রাম ট্রাক উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস