জেলা প্রতিনিধি
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী অন্যায়ভাবে কারও বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেনি। আমাদের করা আটটি মামলায় একজন করে আসামি করা হয়েছে, কারণ দ্বিতীয় কোনো দোষী ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ কেউ কেউ হাজার হাজার মামলা দিয়ে মাঠে নেমেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রের পরিবর্তন না করলে দেশে ভালো কিছু সম্ভব নয়। উন্নয়নের নামে গত ৫৪ বছর ধরে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা সবাই একই কাজ করেছে। দেশকে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। এসবের পরিবর্তন না হলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়।

একটি দলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় কিছু লোক দখলদারি ও চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়ায় চালকল ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধ খাজনা আদায়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, চালের প্রতিটি ট্রাক থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখলের খেলা চলছে। যারা এসব করছেন, তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানাই। মানুষ আপনাদের ঘৃণা করছে, অভিশাপ দিচ্ছে।
চাঁদাবাজদের উদ্দেশে দরদি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, সত্যিই যদি সংসারের অভাব-অনটনের কারণে এসব করা হয়ে থাকে, তাহলে এসব থেকে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা আমরা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খেতে রাজি আছি। তবুও মানুষকে কষ্ট দেবেন না, চাঁদাবাজি করবেন না।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট রাতেই আমরা ঘোষণা দিয়েছি, কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলার আসামি করা হবে না। জামায়াত অন্যায়ভাবে একজন মানুষকেও মামলার আসামি করেনি।
কুষ্টিয়ার প্রাকৃতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পদ্মা ও গড়াই নদীবেষ্টিত এই অঞ্চল আজ মরুভূমির মতো হয়ে গেছে। উপর থেকে পানি এলে নদীতে পানি থাকে না, আবার নদীর দুই কূল উপচে পড়ে সবকিছু তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদীভাঙনে বহু মানুষের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। নদী আল্লাহর নিয়ামত, কিন্তু এই নিয়ামতকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। নদী খননের নামে প্রতিবছর বাজেট থাকলেও সেই টাকা নদীতে নয়, পেটে চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না।

তিনি আরও বলেন, আগস্টের পর জায়গায় জায়গায় আমাদের কিছু ভাইও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন। যদি সত্যিই অভাবের কারণে এমন হয়ে থাকে, তাহলে সেখান থেকে সরে আসুন। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবার হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ থাকবে। বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা যেন তাদের শক্তি দিয়ে দেশকে দৃঢ়ভাবে গড়ে তুলতে পারে।
পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, আমরা চাঁদাবাজদের বুক থেকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেব না; বরং তাদের বুকে টেনে নিয়ে ভালো কাজে যুক্ত করব।
এআর