জেলা প্রতিনিধি
২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
আমি নির্বাচিত হলে ভোলায় কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দখলদার, সন্ত্রাসীদের থাকতে দেওয়া হবে না। আমার মরহুম বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু কোনোদিন আপনাদের সঙ্গে অন্যায় করেনি, আমিও করব না, কথা দিলাম।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় ভোলার নতুন বাজার বিজেপির কার্যালয়ের সামনে এক পথসভায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপির) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ একথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, এইবার মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছে। আমাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের খেদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি ভোলাকে হয়ত সিঙ্গাপুর বানাতে পারব না, তবে ভোলার মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং ভোলার মানুষের জীবন যাত্রার মান কীভাবে উন্নত করা যায় সেই ব্যবস্থা করব। কোনো হিংসা নয়, কোনো কোনো নয়। বিদ্বেষ বিএনপি-বিজেপি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। আমরা কারও সঙ্গে মারামারি, হানাহানি, করব না। হাতপাখা এবং দাঁড়িপাল্লার সঙ্গেও করব না, যারা ভোলা সদর আসনে নির্বাচন করছেন আপনাদের সঙ্গে আমাদের অন্য কোনো শত্রুতা নেই।

আপনারা জানেন, ২০০৮ সালে আমার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর আমি যখন পাল ছাড়া ঘোড়ার মতো হয়ে গিয়েছিলাম। তখন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে পরম মমতায় কাছে টেনে নিয়ে ভোলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই সময় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছিল। তখন আপনারা দেখেছেন ভোলায় কারা নৈরাজ্য করেছিল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, চর দখলসহ সন্ত্রাসের জনপদ বানিয়েছিল। আমি বিরোধী দলের এমপি হয়ে তখন শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, এই কাজটুকু বাংলাদেশের অন্য কোনো এমপির পক্ষে সাহস হয়নি। দরবেশ বাবা, বিদ্যুৎ চুরি, বালিশ চোর, লোটাস কামালের নানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। দেশ নতুন করে আরও একবার স্বাধীন হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশ এখন গণতন্ত্রের দিকে হাঁটছে। আমরা কারও সঙ্গে কোনো অন্যায় করতে চাই না, কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক সুন্দর ভোলা গড়ে তুলব, আসুন আমরা এই অঙ্গীকার করি।

এসময় তিনি আরও বলে, বিএনপি-বিজেপি ভাই ভাই, ঐক্য ছাড়া বিকল্প নাই। এই ভোলায় যদি আমি এমপি হতে পারি, তাহলে গোলাম নবী আলমগীর চাচাকে আমি মুরুব্বি করে মাথায় রাখব। আমি আজকে ভোলায় আসার আগেও তার সঙ্গে দেখা করে দোয়া নিয়ে ভোলার মাটিতে পা দিয়েছি।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে পার্থর আগমনকে কেন্দ্র করে ভোলার খেয়াঘাট থেকে শুরু করে প্রতিটি অলিগলি, রাস্তাঘাটে, পুরো শহরসহ পার্থর উকিল পাড়াস্থ বাড়ি শান্ত নীড় পর্যন্ত পার্থকে একনজর দেখার জন্য জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এর সমাপ্তি ঘটে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই ৮ ঘণ্টা মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে বরণ করে নেন।
প্রতিনিধি/এসএস