জেলা প্রতিনিধি
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। শহর-বন্দর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ, পাড়া-মহল্লা ও চায়ের দোকানগুলোতেও নির্বাচনী আলোচনা এখন নিত্যদিনের বিষয়। শীতের আমেজে এসব আড্ডায় উঠে আসছে অতীত-বর্তমানের রাজনীতি, উন্নয়ন ভাবনা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক এবং পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সংঘাতের আবহে মুখর, ঠিক সেই সময় ভিন্নধর্মী ও সংযত রাজনৈতিক ধারার কথা তুলে ধরে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনি তফশিল ঘোষণার আগ থেকেই পঞ্চগড়-১ আসনে মাঠে সক্রিয় সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দীন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। প্রায় এক বছর ধরে তিনি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে গ্রাম, শহর ও মহল্লায় ঘুরে বেড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। এতে এলাকায় বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছেন।

বাবা ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকারের আদর্শে অনুপ্রাণিত ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বিএনপির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার গণসংযোগে দলীয় ঐক্য জোরদারের পাশাপাশি তরুণদের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পঞ্চগড়ের উন্নয়ন ও অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার নানা প্রতিশ্রুতি ও কুল ইমেজ এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে দারুণ আকৃষ্ট করছে।
এক বক্তব্যে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের চিকিৎসা। পঞ্চগড়ে একটি সরকারি বা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যাতে অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা খাতকে উন্নয়নের দ্বিতীয় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, অনেক শিক্ষার্থী দূরে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। তাই এখানে একটি সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে একজন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে আমরা আশ্বাস পেয়েছি। ইনশাল্লাহ এখানে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড় শহরকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আওতায় আধুনিক সড়কব্যবস্থা, ড্রেনেজ, লাইটিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ একটি আদর্শ পৌরসভার সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি ও শ্রমিক নির্ভর জেলা হিসেবে পঞ্চগড়ের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাথর শ্রমিকসহ সব শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে প্রত্যেক পরিবার থেকে অন্তত একজন নারী বা পুরুষকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, জনগণের পাশে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমি পঞ্চগড়ের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
উত্তেজনার রাজনীতির বাইরে থেকে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সুসংবদ্ধ চিন্তার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন তিনি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার শান্ত স্বভাব, পরিমিত ভাষা ও যুক্তিনির্ভর নেতৃত্ব পঞ্চগড়ের রাজনীতিতে একটি পরিণত ও বাস্তবভিত্তিক ধারার সূচনা করেছে।

শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনেও ব্যারিস্টার নওশাদ জমির আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ট্যাক্সেশনে এমএসসি এবং লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার আগেই প্রায় এক বছর ধরে তিনি পঞ্চগড়-১ আসনের গ্রাম, শহর ও মহল্লায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন, যা এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
নির্বাচিত হলে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য, কৃষকবান্ধব ঋণব্যবস্থা, যুবদের টেকসই কর্মসংস্থান এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলে জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, পঞ্চগড়-১ আসনের রাজনৈতিক উত্তাপও তত বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ।
প্রতিনিধি/টিবি