জেলা প্রতিনিধি
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় গতকাল সোমবার প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে তারা মুক্ত হন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দুজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুলসহ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন।
নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে বিকেল তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে শিক্ষার্থীরা পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে বসে।
বৈঠকে প্রশাসন জানায়, নির্বাচন স্থগিতের আদেশের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে এবং চেম্বার আদালতে আপিল করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরদিনই নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রাত একটার দিকে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করেন। তবে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল রাতে একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম জানান ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেম্বার আদালতে আপিল করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আদালত অনুমতি দিলেই আমরা পরবর্তী দিন নির্বাচন আয়োজন করব।’
এদিকে আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আশরাফ উদ্দিনকে ‘লাঞ্ছিত’ করার একটি অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি