images

সারাদেশ

প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট, অভিযোগ রুমিন ফারহানার

জেলা প্রতিনিধি

১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর এবার উল্টো প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি; আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দেখানো বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বলতে গিয়ে আমি উদাহরণ হিসেবে হাত নেড়েছি। আমার একটি কথিত অপরাধের (যদি হয়ে থাকে) বিপরীতে তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমি এমন প্রশাসনের অধীনে কীভাবে নির্বাচন করব, যারা আগে থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট (বায়াসড)?’

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুমিন ফারহানা এসব অভিযোগ তোলার পাশাপাশি নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভার নামে স্টেজ ও মাইক বসিয়ে জনসভা করছেন, গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছেন। এমনকি আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘সোমবার সকালে আমি রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে জানতে চেয়েছিলাম কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি।’

এদিকে, রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক রুমিন ফারহানাকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গত রবিবার রাতে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

শোকজের বিষয়ে রুমিন ফারহানা জানান, তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে এই চিঠির কথা জেনেছেন এবং নির্ধারিত সময়ে তার আইনজীবী গিয়ে জবাব দিয়ে আসবেন। নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসার এমন চিঠি দিতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি আচরণবিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং সিনিয়র সহকারী জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে গত শনিবার এই মর্মে একটি চিঠি পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

ঐ চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বিশাল জনসভার আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জনসভাটি ভেঙে দেওয়া হয়। সে সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে আক্রমণাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন এবং আঙুল উঁচিয়ে বারবার হুমকি দেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ অন্যান্যরা মারমুখী আচরণ করেন। এতে একটি ‘মব’ সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়া হয়, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চিঠির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও লিঙ্কও যুক্ত করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন ফারহানা ৪০০-৫০০ লোকের উপস্থিতিতে বড় স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনসভা বন্ধ করতে বললে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেন।

এদিকে, নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ইঙ্গিত করে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন রুমিন ফারহানা। রবিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘আশা করি প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ভিন্ন চোখে দেখবেন না। আপনাদের ৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারা বাংলাদেশে যেমন ৫ আগস্ট হয়েছিল, তেমনি যেকোনো আসনেই ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি ঘটতে পারে।’

প্রতিনিধি/একেবি