জেলা প্রতিনিধি
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
চলছে মাঘ মাস। হবিগঞ্জের বিশাল এলাকাজুড়ে থাকা পাহাড়, গ্রাম ও বস্তিতে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। শত শত বছর ধরে পাহাড়ে বসবাস করে আসছেন নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও চা-শ্রমিক এবং ছিন্নমূল লোকজন। শীত বস্ত্রের অভাবে জেলার এসব ছিন্নমূলদের মাঝে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।
জেলার পাহাড়ি বাসিন্দারা পতিত জমিতে লেবু, কাঁঠাল, সবজি, কমলা, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে অর্থ অল্প উপার্জন করেন। আর পাহাড়ের চা বাগানের বাসিন্দারা চা-পাতা উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তারা জানান, কালিয়াবাড়ি ছাড়াও চুনারুঘাট, বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে নৃ-গোষ্ঠী পুঞ্জি। এসব পুঞ্জিতে শীতের প্রকোপ অনেক বেশি। এসব এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র মানুষ অর্থের অভাবে শীতের কাপড় কিনতে পারেন না। তাদের জন্য শীতবস্ত্র প্রয়োজন।
জেলার চুনারুঘাট উপজেলার কালেঙ্গা পাহাড়ের কৃষ্ণছড়া পুঞ্জির হেডম্যান উমেশ খাড়িয়া ও কালিয়াবাড়ি পুঞ্জির হেডম্যান বিনয় দেববর্মা বলেন, পাহাড়ে শীত বেড়ে চলেছে। এ অবস্থায় শীতবস্ত্রের খুবই অভাব। এ কারণে শিশু, নারী ও বয়স্করা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

দেউন্দি বাগানের বাসিন্দা চা শ্রমিক ভাসানী চৌহান ও কমলা গোয়ালা বলেন, প্রচন্ড শীত। এ কারণে শরীরটা ভালো না। এই শীতে সকালে কাজে যেতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার শীতবস্ত্র নেই। আমার মতো অনেক শ্রমিকের শীতবস্ত্রের অভাব রয়েছে।
এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে গরম কাপড় বিক্রির ধুম পড়েছে। পুরনো কাপড়ের মার্কেটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের লোকজন শীত বস্ত্র কিনছেন। বিত্তবানরা যাচ্ছেন বিপণী বিতান ও মার্কেটগুলোতে। এছাড়া উপজেলা শহরের বিভিন্ন হাট বাজারে গরম কাপড় বিক্রির ধুম লেগেছে।
জেলা শহরে আজমিরীগঞ্জ থেকে শীতবস্ত্র ক্রয় করতে আসা কাজল মিয়া বলেন, শীত আর শীত। শরীরে ঠান্ডা লাগানো যাবে না। ঠান্ডায় বিরাট ক্ষতি হতে পারে। শীত থেকে রেহাই পেতে গরম কাপড় ক্রয় করেছি।
বানিয়াচংয়ের কামাল মিয়া বলেন, আগের চেয়ে শীত বস্ত্রের দাম বেড়েছে। তাপরও শীত থেকে বাঁচতে ৮০০ টাকায় ৪টি শীতের কাপড় কিনেছি।
চুনারুঘাটের দেউন্দি চা বাগানের বাসিন্দা প্রতীক থিয়েটার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমোদ মাল বলেন, বাগানে শীত জেঁকে বসেছে। এ সময়ে দরিদ্র শ্রমিকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের প্রয়োজন গরম কাপড়। কিন্তু অর্থের অভাবে অনেকেই শীতের কাপড় কিনতে পারছেন না।

শীতের কাপড় বিক্রেতা ফজলু মিয়া, কাজল মিয়া, আব্দুল আলী বলেন, শীতে কাপড় বিক্রি চলছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে এসব ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসার স্বার্থে কম লাভে গরম কাপড় বিক্রি করতে হচ্ছে।
পরিবেশ প্রেমিক সুমন মিয়া বলেন, গ্রামগঞ্জে শীতের প্রকোপ যেমন, তার চেয়ে বেশি পাহাড়িদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে করে তারা ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। পাহাড়িরা এখন শীতবস্ত্রের অপেক্ষায়। সেই সঙ্গে গ্রাম ও বস্তির ছিন্নমূল লোকজনও শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্ভোগে রয়েছে। দ্রুত তাদের প্রয়োজন শীতবস্ত্র।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বলেন, শহরে শীতের তীব্রতা তেমন না থাকলেও পাহাড়, গ্রাম ও বস্তিতে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। ওইসব স্থানের দরিদ্র বাসিন্দাদের কাছে দ্রুত শীতবস্ত্র পৌঁছাতে হবে। শুধু সরকারিভাবে নয় সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র নিয়ে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজন।
প্রতিনিধি/টিবি