জেলা প্রতিনিধি
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আপনারা এখন থেকে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন কাকে ভোট দেবেন। যত বাধা আসুক, সব বাধা মোকাবিলা করতে সরকার প্রস্তুত আছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে একই ব্যবস্থা, একই আইন-কানুন এবং একই মানুষ রেখে পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিবর্তন কীভাবে আনা যায়, সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এর মধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশন সরাসরি ভোট ও ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত। এসব কমিশনের সুপারিশ নিয়ে দিনের পর দিন সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চলে যাব, কিন্তু দেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে রাজনীতিবিদদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়ক হবে এমন ১২টি বিষয়ের ওপর ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট নেওয়া হচ্ছে। আপনারা চাইলে ‘হ্যাঁ’ বলতে পারেন, আবার চাইলে ‘না’ও বলতে পারেন। যারা সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষে থাকবেন, তারা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দেবেন। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছি, তবে এর অর্থ এই নয় যে কেউ ভিন্ন মত দিতে পারবে না। আমরা কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথা বলছি, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগে ভোটাধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলন হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পরে একজন ক্ষমতায় এসে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেন এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। এখন যদি আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন, তাহলে এমনটি আর হবে না। কারণ তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হবে এবং সংবিধান ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যাবে না।
তিনি বলেন, কোনো পরিবর্তন রাতারাতি আসে না, তবে আমরা পরিবর্তনের ভিত্তিটা স্থাপন করে যেতে চাই।
এ সময় স্থানীয় সরকারের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আবু জাফর, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জামানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসএস