তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
গরমের তীব্রতা বাড়লেই অস্বস্তি থেকে বাঁচতে ঘর ঠান্ডা করার জন্য এসি, কুলার কিংবা পাখার ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে দেন সাধারণ মানুষ। ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে স্বস্তি দিতে এসি দারুণ কার্যকর হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে এটি ব্যবহার করলে বিদ্যুতের বিল চোখের পলকে আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রথাগত বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে নিজস্ব সৌরশক্তি বা সোলার সিস্টেমের মাধ্যমেই অত্যন্ত সহজে এসি চালানো সম্ভব।
সোলার শক্তির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ খরচ ও বিলের হাত থেকে বাঁচতে বর্তমানে সচেতন মানুষ খুব দ্রুত সোলার শক্তির ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। সূর্যের আলো থেকে সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যার সাহায্যে দিনের বেলায় এসি সহ ঘরের অন্যান্য বড় বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অনায়াসে চালানো যায়। সঠিক ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে পারলে মাসিক বিদ্যুৎ বিলে বড় ধরনের সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে এসি চালানোর জন্য সোলার বসানোর আগে আপনার ঘরের এসি ঠিক কত টনের এবং সেই অনুযায়ী কত কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেমের প্রয়োজন, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। কারণ এসির টন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই মূলত বিদ্যুৎ খরচ নির্ধারিত হয় এবং সেই হিসাব মেনেই সোলার প্যানেলের সংখ্যা, ইনভার্টার ও ব্যাটারির ক্ষমতা ঠিক করা হয়।
এক টনের এসির জন্য প্রয়োজনীয় সোলার সিস্টেম
সাধারণত ১ টনের একটি এসি চলার সময় প্রায় ৯০০ ওয়াট থেকে ১,৩০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করে থাকে। আপনার এসি যদি ইনভার্টার প্রযুক্তিযুক্ত হয়, তবে বিদ্যুতের খরচ কিছুটা কম হতে পারে; কিন্তু নন-ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। এই ধরনের একটি এসি সোলার শক্তির সাহায্যে চালাতে হলে সাধারণত ১.৫ কিলোওয়াট থেকে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেমের প্রয়োজন হয়। এই ক্ষমতার সিস্টেমে সাধারণত ৪ থেকে ৫টি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়, যদি প্রতিটি প্যানেলের ক্ষমতা ৪০০ থেকে ৫৫০ ওয়াটের মধ্যে হয়। এর সঙ্গে একটি মানসম্মত সোলার ইনভার্টার এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে পর্যাপ্ত ব্যাটারি ব্যবহার করতে হয়। এই সেটআপের মাধ্যমে শুধু এসিই নয়, বরং বাড়ির অন্যান্য প্রয়োজনীয় পাখা, টেলিভিশন এবং কয়েকটি লাইটও অনায়াসে চালানো যায়।

দেড় টনের এসির জন্য উপযুক্ত সোলার সেটআপ
বেশিরভাগ বাড়িতেই সাধারণত ১.৫ টন ক্ষমতার এসি ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে। এই ধরনের এসি সাধারণত গড়ে ১,৫০০ ওয়াট থেকে শুরু করে ২,০০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করতে সক্ষম। এ ধরনের এসি সোলারের মাধ্যমে চালাতে হলে অন্তত ২.৫ কিলোওয়াট থেকে ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করা হয়। এই ধরনের সিস্টেমে সাধারণত ৬ থেকে ৮টি সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে হয়। এর পাশাপাশি উচ্চ ক্ষমতার সোলার ইনভার্টার এবং শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপের ব্যবস্থাও রাখা প্রয়োজন হয়। একটি ৩ কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেম ইনস্টল করলে শুধু এসিই নয়, বরং এর পাশাপাশি ফ্রিজ, কুলার, পাখা, ওয়াশিং মেশিন এবং বাড়ির আরও বেশ কিছু ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি খুব সহজেই একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয়।
দুই টনের এসির জন্য সোলার সিস্টেমের মাপজোখ
২ টনের এসি অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকে। এই ক্ষমতার একটি এসি সাধারণত ২,০০০ ওয়াট থেকে ৩,০০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ টেনে নিতে পারে। তাই এ ধরনের শক্তিশালী এসি সোলারে চালাতে হলে ৩.৫ কিলোওয়াট থেকে ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই ক্ষমতার বড় সোলার সিস্টেমে সাধারণত ৮ থেকে ১২টি পর্যন্ত সোলার প্যানেল ছাদ বা উপযুক্ত স্থানে লাগাতে হয়। এর সঙ্গে নিখুঁতভাবে এসি চালানোর জন্য অবশ্যই উচ্চ ক্ষমতার সোলার ইনভার্টার এবং শক্তিশালী হেভি-ডিউটি ব্যাটারি ব্যাকআপ সিস্টেমের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
এজেড