images

সারাদেশ

স্বৈরাচারী কাঠামো থাকলে পরের সরকারেও স্বৈরাচারী হতে পারে: বদিউল আলম

জেলা প্রতিনিধি

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, শেখ হাসিনা কিন্তু ট্যাংকে চড়ে ক্ষমতায় আসেননি, কিংবা উড়ে-পড়েও ক্ষমতায় আসেননি। তিনি এসে সংবিধান বাতিলও করে দেননি, যদিও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করেছেন, পুনর্লিখন করেছেন। শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করে দানবে পরিণত হয়েছেন। এ স্বৈরাচারী কাঠামো যদি থাকে, তাহলে পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদেরও স্বৈরাচারী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’ বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন

গণভোটের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে সরকারের উদ্যোগ দুঃখজনক: ড. বদিউল আলম

আমরা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন না করি, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ উত্তর হলেও এবং এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও আমরা যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবো, তা কিন্তু নয়। কারণ এটা বহুলাংশে নির্ভর করে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর। আমরা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন না করি, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আমরা যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না আনি, তাহলে আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণও হবে না।

সুজন সম্পাদক বলেন, আমি আশা করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয়, এ ব্যাপারে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের প্রার্থীরা সদাচরণ করবে। সরকার তার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করবে, নিরপেক্ষভাবে পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবে এবং নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে আইন বিধিবিধান প্রণয়ন করবে বলে আমরা আশা করি।

4ae57164-10cb-44ea-9b73-b85db248b688

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এখন যেটা মনে রাখতে হবে, এ সরকার কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। এ সরকার হলো ৫ আগস্ট পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আইন, আইনি কাঠামো ছিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব ছিল তিন মাসের জন্য। নির্বাচন করে তারা কোনোরকম নীতিগত বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না এবং তারা তিন মাস পরেই তারা বিদায় নিতো। কিন্তু এ সরকার এসেছে কতগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে-নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার। এ সংস্কার করার জন্য তারা ১১টা সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। তাই সরকার এ সংস্কার করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ এবং তাই তারা এ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারে।

আরও পড়ুন

টেকসই গণতন্ত্র না হলে মানুষ আবারো রাস্তায় নামবে: বদিউল আলম

এসময় বক্তব্য দেন- রংপুর জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু, মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট, জামায়াতের রংপুর সদর ৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমানসহ অন্যান্য প্রার্থীরা।

প্রতিনিধি/এসএস