images

সারাদেশ

আসছেন সিলেটের জামাই, প্রস্তুত হচ্ছে আলিয়া মাদরাসা মাঠ

জেলা প্রতিনিধি

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফরে আসছেন। সিলেটের এই পুণ্যভূমি থেকেই তিনি শুরু করবেন নির্বাচনি প্রচারণা। তার এই আগমনকে ঘিরে এখন আনন্দে ভাসছেন সিলেটবাসী।

সিলেটের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তিনি বৈবাহিক সূত্রে সিলেটের জামাতা; তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান সিলেটের একটি বনেদি পরিবারের সন্তান, যা সিলেটবাসীর কাছে অত্যন্ত সমাদৃত ও শ্রদ্ধার। এই পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তারেক রহমান নিজেও নিজেকে ‘হাফ সিলেটি’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল করিম কয়েছ লোদী জানান, ২০০৫ সালে তারেক রহমান সর্বশেষ সিলেট সফর করেছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর তিনি আবারও এই পুণ্যভূমিতে পা রাখছেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি সিলেটে পৌঁছে তিনি প্রথমেই হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।

রেজাউল করিম কয়েছ লোদী আরও বলেন, ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। আমরা সিলেটবাসী আশাবাদী, ২২ জানুয়ারি তার সেই পরিকল্পনার কথা শুনতে পাব। তারেক রহমান আমাদের সিলেটের জামাতা, তাই তার আগমনের বার্তায় সিলেটের লাখ লাখ মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।’

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তারেক রহমানকে একনজর দেখার দীর্ঘদিনের অতৃপ্ত বাসনা এবার পূর্ণ হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতা হিসেবে তার নির্বাচনি প্রচারণার এই আনুষ্ঠানিক অভিষেক সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর সিলেট হয়েই দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু নিরাপত্তার খাতিরে বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ভিড় করতে নিষেধ করায় সেবার সিলেটবাসীর সঙ্গে তার দেখা হয়নি। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবার সরাসরি জনগণের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন তিনি।

সিলেটে ‘জামাই আদরের’ যে ঐতিহ্য ও রীতি রয়েছে, তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, এই আত্মিক সম্পর্কের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আগামী নির্বাচনে।

সিলেটের সঙ্গে জিয়া পরিবারের সম্পর্ক কেবল পারিবারিক নয়, বরং ঐতিহাসিক। মহান মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বিশেষত ‘জেড ফোর্সের’ কমান্ডার হিসেবে তিনি সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে সফল অপারেশন পরিচালনা করেন। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিলেট রেল স্টেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি, যা ‘সিলেট মুক্ত দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

সিলেট মুক্তকরণে তার এই অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। শহীদ জিয়ার সেই অবদান এবং জিয়া পরিবারের প্রতি সিলেটের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও টান আজও অটুট রয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি