images

সারাদেশ

বাঁশের লাঠি ব্যবহারে কর্মীদের উৎসাহ দেওয়ায় জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

জেলা প্রতিনিধি

১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার একাংশ) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন গত মঙ্গলবার এ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১২ জানুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনি কর্মশালায় বক্তব্য দেন রুহুল আমিন। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সামনে ১২ তারিখ একটি লড়াই হবে। এই লড়াইয়ে যারা মরার জন্য যাবে তারাই জিতবে, যারা রক্ত ঝরানোর জন্য যাবে তারাই জিতবে। আর যারা বাঁচতে যাবে তারা হেরে যাবে।’

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘খালি হাতে আমরা ভোট সেন্টার পাহারা দেব না। বাঁশের লাঠি তেল মাখিয়ে ১১ তারিখ পর্যন্ত সুন্দর করে রেখে দেবেন ভোট সেন্টার পাহারা দেওয়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার মতো আমাদের বিজয় দান করুক। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য জামায়াতে ইসলামী দলের দাঁড়িপাল্লাকে বিজয় দান করুক।’

আরও পড়ুন

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বামীর আপিলে প্রার্থিতা হারালেন স্ত্রী

এছাড়া বক্তব্যে তিনি কর্মীদের বাঁশের লাঠি ব্যবহার করতে সরাসরি উৎসাহ দেন। এমন উসকানিমূলক বক্তব্য নির্বাচনে জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে এসব বক্তব্য সহিংসতা উসকে দিতে পারে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন, যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫ ও ১৬-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রুহুল আমিনের ওই বক্তব্যকে উসকানিমূলক ও আচরণবিধি পরিপন্থি দাবি করে একই দিন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এম এ সবুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, কার্পাসডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি কর্মশালায় রুহুল আমিন ভোটের আগে বাঁশে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থি। চিঠির সঙ্গে পেনড্রাইভে বক্তব্যের ভিডিও সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

পরবর্তীতে ভিডিও পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে সিভিল জজ নাসির হুসাইনের স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১২ জানুয়ারির মূল বক্তব্য ছিল, আমরা ভোট চুরি করব না এবং কাউকেও ভোট চুরি করতে দেব না। দিনের ভোট রাতে নেওয়ার রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। যারা ভোট চুরি করতে আসবে, তাদের আমরা প্রতিহত করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিহত করার বিষয়টি খালি হাতে সম্ভব নয় বলেই কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এটা কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়, কিংবা কর্মীদের উসকানি দেওয়ার জন্যও নয়। এটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদ্দেশেও নয়। মূলত সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করার একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিনিধি/এসএস